বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ফের একবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মৌলবাদের প্রসঙ্গ তুলে সরব হলেন। রবিবার কলকাতার বাংলা অ্যাকাডেমিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিও জানান। তাঁর বক্তব্য, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সমস্ত প্রগতিশীল মানুষের পক্ষ থেকেই চিন্ময় প্রভুর মুক্তি দাবি করা উচিত।
তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব কমেনি। তাঁর মতে, সরকার পরিবর্তন হলেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, নারীর অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়ে গিয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, দেশের হিন্দু সংখ্যালঘুরা এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।
চিন্ময় প্রভুর প্রসঙ্গ টেনে তসলিমা বলেন, তাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং তাঁকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি রেখে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া উদ্বেগের বিষয়। তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
সাংবাদিক বৈঠকে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই আন্দোলন নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার সবটাই পূরণ হয়নি বলে তাঁর ধারণা। তাঁর বক্তব্য, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে বিভিন্ন উগ্রপন্থী শক্তির প্রভাব বেড়েছে এবং এর ফলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই মতামত তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন।
উল্লেখ্য, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (চিন্ময় প্রভু) বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার নিয়ে সরব হওয়ার পর ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তাঁর গ্রেপ্তার এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনা হয়েছে এবং একাধিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১৯ বছর পর সম্প্রতি কলকাতায় ফিরে এসেছেন তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবনে থাকার পর কলকাতায় ফিরে তিনি আবেগঘন প্রতিক্রিয়াও জানান। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকার বিষয়েও তিনি ভাবতে পারেন।
তসলিমা নাসরিন বহু বছর ধরেই ধর্মীয় মৌলবাদ, নারী অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার নিয়ে সরব। তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও লেখালেখি অতীতে যেমন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁকে মানবাধিকার ও বাক্স্বাধীনতার প্রশ্নে আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। কলকাতার এই সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি সেই অবস্থান থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।


