সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় একটি খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, **প্রতিটি পরিবারকে বছরে বাধ্যতামূলকভাবে ১,২০০ টাকা পঞ্চায়েত কর দিতে হবে।** এই খবরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে সেই জল্পনায় এবার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিল **পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর**। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, **নতুন কোনও কর আরোপ করা হয়নি এবং প্রত্যেক পরিবারের উপর ১,২০০ টাকার বাধ্যতামূলক কর চাপানো হয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।**
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি যে **স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP)** জারি করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির রাজস্ব সংগ্রহের পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করা। সেখানে **প্রতি পরিবার থেকে ১,২০০ টাকা কর নেওয়ার নির্দেশ নেই**। বরং এটি পঞ্চায়েতের সামগ্রিক রাজস্ব সংগ্রহের একটি **গড় লক্ষ্যমাত্রা (average revenue target)** হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন বৈধ উৎস থেকে অর্জন করা যেতে পারে।
## কী নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিভ্রান্তি?
সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, রাজ্যের প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারকে বছরে ১,২০০ টাকা অতিরিক্ত কর দিতে হবে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বহু মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে সরকার জানায়, এই ব্যাখ্যা ভুল এবং সরকারি নির্দেশিকার ভুল ব্যাখ্যা থেকেই এই গুজব ছড়িয়েছে।
## সরকারের স্পষ্ট বক্তব্যপঞ্চায়েত দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী—
* কোনও নতুন ‘পঞ্চায়েত কর’ চালু করা হয়নি।
* প্রত্যেক পরিবারকে ১,২০০ টাকা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
* SOP-এ গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
* রাজস্ব আসতে পারে সম্পত্তি কর, ট্রেড লাইসেন্স, ফি এবং অন্যান্য বৈধ উৎস থেকেও।
## কেন জারি করা হয়েছে নতুন SOP?
সরকারের দাবি, অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত নিজস্ব আয় বাড়াতে পারছে না। ফলে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই রাজস্ব সংগ্রহে স্বচ্ছতা, সময়মতো কর আদায় এবং বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজে বের করার জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
## সাধারণ মানুষের কী করণীয়?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক তথ্যের উপর ভরসা করতে। কোনও নতুন কর আরোপের সিদ্ধান্ত হলে তা সরকারিভাবেই জানানো হবে।
## রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ SOP-র ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরকারের বক্তব্য, রাজস্ব বৃদ্ধির প্রশাসনিক লক্ষ্যকে ভুলভাবে ‘নতুন কর’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে, জনগণের উপর অতিরিক্ত কর চাপানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
## বিভ্রান্তি দূর করল সরকার
সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত কর বাড়ানো নিয়ে যে গুজব ছড়িয়েছিল, তা সরকার স্পষ্টভাবে খারিজ করেছে। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, **₹১,২০০ কোনও বাধ্যতামূলক পারিবারিক কর নয়**, বরং পঞ্চায়েতের রাজস্ব সংগ্রহ সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক লক্ষ্যমাত্রার ভুল ব্যাখ্যা থেকেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।


