পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজা। সম্প্রতি তাঁর একটি বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তিনি কি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে চলেছেন? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শশী পাঁজা বা দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। জানা গিয়েছে, শশী পাঁজা প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী তথা বর্তমানে এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে যান। সেখানে তিনি প্রায় দু’ঘণ্টা ছিলেন। সেই সময় কাকলি ঘোষ দস্তিদারও উপস্থিত ছিলেন। দুই প্রাক্তন সহকর্মীর এই দীর্ঘ বৈঠক ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দলবদলের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তাই এই সাক্ষাৎকে অনেকেই শুধুমাত্র সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখছেন না।
এই বৈঠকের পর রবিবার সকালে বিতর্ক আরও বাড়ে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে দাবি করেন, শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিতে পারেন। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ায় জল্পনা আরও বাড়ে। তবে ওই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে শশী পাঁজার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনও উত্তর দেননি বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪ হাজার ৬৩৩ ভোটে পরাজিত হন শশী পাঁজা। টানা তিনবার ওই কেন্দ্রের বিধায়ক এবং রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই প্রবীণ নেত্রীর নির্বাচনী পরাজয় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনও রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত বা সৌজন্য সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে শুধুমাত্র একটি বৈঠক বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ও পরে মুছে ফেলা একটি পোস্টের ভিত্তিতে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যায় না। কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা দলের সরকারি ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। দলীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। ফলে শশী পাঁজার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে পুনর্গঠন, নতুন সমীকরণ এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে শশী পাঁজার এই বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর দলত্যাগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা ঘোষণা সামনে আসেনি।
ফলে এই মুহূর্তে এটুকুই নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, একটি বৈঠক এবং একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু শশী পাঁজা সত্যিই তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়বেন কি না, তার উত্তর মিলবে শুধুমাত্র তাঁর বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই।


