Thursday, September 17, 2026

Creating liberating content

জোড়াফুল ছাড়া কোন প্রতীকে...

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

আরও পাঁচ বছর টাটা...

টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় পরিবর্তনের জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল টাটা সন্সের...

ত্রাণের নৌকায় উঠতে হুড়োহুড়ি,...

মালদার ভুতনিতে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে ত্রাণের জন্য বানভাসি মানুষের হাহাকার আরও একবার প্রকাশ্যে...

লিঙ্গবৈষম্যে চাকরি না পাওয়ায়...

শুধু মহিলা হওয়ার কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের...
Homeবাংলাবিশ্বকর্মা পুজোয় কর্মস্থলে...

বিশ্বকর্মা পুজোয় কর্মস্থলে এই ভুলগুলি একেবারেই নয়

বিশ্বকর্মা পুজো ২০২৬ পালিত হচ্ছে ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান বিশ্বকর্মা হলেন দেবশিল্পী ও নির্মাণকৌশলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। কারখানা, ওয়ার্কশপ, দোকান, অফিস, গ্যারাজ, নির্মাণক্ষেত্র এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে এই দিনে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। যাঁরা যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, নির্মাণ, কারিগরি কাজ বা উৎপাদনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাছে বিশ্বকর্মা পুজোর গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। এই দিনে মেশিন, যন্ত্র, সরঞ্জাম এবং কর্মস্থল পরিষ্কার করে পুজো করার রীতি রয়েছে। 

বিশ্বাস করা হয়, কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কাজের সরঞ্জামকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে সারা বছর কাজের ক্ষেত্রে উন্নতি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। তবে শুধু পুজোর আয়োজন করলেই হবে না, কর্মস্থলের পরিবেশও সুশৃঙ্খল রাখা প্রয়োজন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা পুজোর আগে কিছু জিনিস সরিয়ে ফেলা বা কিছু অভ্যাস এড়িয়ে চলা শুভ বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি বাস্তব দিক থেকেও এই বিষয়গুলি কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত।

### ভাঙা যন্ত্রপাতি ও নষ্ট সরঞ্জাম জমিয়ে রাখবেন না

বিশ্বকর্মা পুজোর আগে কর্মস্থলে থাকা ভাঙা মেশিন, নষ্ট যন্ত্রপাতি, অকেজো টুলস বা দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা সরঞ্জামগুলি চিহ্নিত করা উচিত। প্রচলিত বিশ্বাসে, ভাঙা ও অকেজো জিনিস কর্মস্থলে নেতিবাচকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী মেরামত করতে হবে অথবা নিয়ম মেনে সরিয়ে ফেলতে হবে।

বাস্তব দিক থেকেও ভাঙা সরঞ্জাম কর্মীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। কোনও নষ্ট বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে শর্ট সার্কিট, আগুন বা দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তাই পুজোর আগে কর্মস্থলের প্রতিটি যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে দেখা জরুরি।

### অকেজো ইলেকট্রনিক্স ও মৃত ব্যাটারি সরিয়ে ফেলুন

অফিস, দোকান বা কারখানায় অনেক সময় পুরনো কম্পিউটার, নষ্ট মোবাইল, অকেজো চার্জার, মৃত ব্যাটারি, পুরনো তার এবং ব্যবহার না করা ইলেকট্রনিক সামগ্রী জমে থাকে। বিশ্বকর্মা পুজোর আগে এই ধরনের জিনিস সরিয়ে কর্মস্থল গোছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী শুধু জায়গা দখল করে না, কখনও কখনও তা অগ্নিকাণ্ড বা বৈদ্যুতিক বিপদের কারণও হতে পারে। তাই নষ্ট ইলেকট্রনিক্স সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে না ফেলে নির্দিষ্ট ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরানো উচিত।

### অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পুরনো ফাইল জমিয়ে রাখবেন না

অফিস বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় পুরনো বিল, অপ্রয়োজনীয় কাগজ, বাতিল নথি, পুরনো রিপোর্ট এবং ব্যবহার না করা ফাইল জমে থাকে। পুজোর আগে এই সমস্ত কাগজপত্র বাছাই করে প্রয়োজনীয় নথি আলাদা করে রাখা উচিত। অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট বা পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ধর্মীয় বিশ্বাসে অগোছালো কাগজপত্রকে কর্মক্ষেত্রে স্থবিরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। আবার বাস্তব দিক থেকে অতিরিক্ত কাগজ জমে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। ফলে কাজের গতি কমে যায় এবং ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে।

### অসম্পূর্ণ কাজ ও পুরনো দায়িত্ব ফেলে রাখবেন না

বিশ্বকর্মা পুজোর আগে অসম্পূর্ণ কাজ, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রকল্প, মেরামতের অপেক্ষায় থাকা যন্ত্র বা বকেয়া দায়িত্বের তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। কোন কাজ আগে শেষ করতে হবে এবং কোন কাজের জন্য অতিরিক্ত সময় বা কর্মী প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা জরুরি।

বিশ্বাস অনুযায়ী, অসম্পূর্ণ কাজ কর্মস্থলে অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও কাজ ফেলে রাখলে চাপ বাড়ে এবং উৎপাদনশীলতা কমে। তাই পুজোর আগে পুরনো কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা ভালো অভ্যাস।

### কর্মস্থলে ধুলো-ময়লা জমতে দেবেন না

বিশ্বকর্মা পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল কর্মস্থল পরিষ্কার করা। মেশিনের গায়ে জমে থাকা ধুলো, তেল, গ্রিজ, ময়লা, আবর্জনা এবং অব্যবহৃত অংশ পরিষ্কার করা উচিত। বিশেষ করে কারখানা, গ্যারাজ, ওয়ার্কশপ ও নির্মাণক্ষেত্রে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরি।

ধুলো ও তেল জমে থাকলে মেশিনের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আগুন লাগার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই পুজোর আগে শুধু সাজসজ্জা নয়, যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং কর্মস্থলের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

### পুজোর সময় যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

অনেক জায়গায় বিশ্বকর্মা পুজোর দিন যন্ত্রপাতি, মেশিন ও সরঞ্জাম পুজো করে কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী এই দিনে যন্ত্র ব্যবহার না করার চল রয়েছে। তবে কোনও কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কাজ চালু রাখার প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে।

পুজোর সামগ্রী, ফুল, জল, তেল বা ধূপ যেন বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং মেশিনের সংবেদনশীল অংশের কাছে না রাখা হয়। আগুন, ধূপ বা প্রদীপ ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কর্মীদের নিরাপত্তাকে কোনওভাবেই ধর্মীয় আচার বা সাজসজ্জার চেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকর্মা পুজো শুধু মেশিন বা সরঞ্জামের পুজোর দিন নয়; এটি শ্রম, দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্কৃতিকে সম্মান জানানোরও একটি উপলক্ষ। এই দিনে কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা, নষ্ট সরঞ্জাম সরানো, পুরনো কাজের হিসাব নেওয়া এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা উচিত। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তব কর্মজীবনেও এই অভ্যাসগুলি কর্মস্থলকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং উৎপাদনশীল করে তুলতে পারে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

জোড়াফুল ছাড়া কোন প্রতীকে লড়বে মমতা-ঋতব্রত শিবির

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপড়েন ক্রমেই জটিল আকার নিয়েছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—শেষ পর্যন্ত কোন শিবির ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার...

আরও পাঁচ বছর টাটা সন্সের চেয়ারম্যান থাকছেন এন চন্দ্রশেখরন

টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় পরিবর্তনের জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল টাটা সন্সের পরিচালন পর্ষদ। এন চন্দ্রশেখরনকে আরও পাঁচ বছরের জন্য টাটা সন্সের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত বোর্ড বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত...

ত্রাণের নৌকায় উঠতে হুড়োহুড়ি, ভুতনিতে বানভাসিদের দুর্ভোগ

মালদার ভুতনিতে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে ত্রাণের জন্য বানভাসি মানুষের হাহাকার আরও একবার প্রকাশ্যে এল। জলমগ্ন এলাকা থেকে ডিঙি নৌকায় করে ত্রাণ নিতে এসে একটি ত্রাণবাহী নৌকার কাছে কার্যত হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন বহু মানুষ। কেউ নৌকা থেকে নেমে জলে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.