নিত্যযাত্রীদের জন্য আরও একটি বড় উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত **যাত্রী সাথী (Yatri Sathi)**। এবার শহর কলকাতায় চালু হল অত্যাধুনিক **এসি শাটল পরিষেবা**, যেখানে প্রাথমিক ভাড়া রাখা হয়েছে মাত্র **৩৯ টাকা**। প্রথম পর্যায়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, আরামদায়ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর যাতায়াতের ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
নতুন পরিষেবার মাধ্যমে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষদের দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হবে। যাত্রী সাথী অ্যাপের মাধ্যমে আগাম আসন সংরক্ষণ (Seat Booking) করা যাবে। ফলে বাসে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ যাত্রার ঝামেলা অনেকটাই কমবে। যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকে বাসে উঠতে পারবেন এবং যাত্রাপথ সম্পর্কিত তথ্যও অ্যাপ থেকেই জানা যাবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে **তিনটি ব্যস্ত রুটে** এই এসি শাটল পরিষেবা চালু হয়েছে। ধাপে ধাপে পরিষেবার পরিধি বাড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় **১০০টি ট্রিপ** পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রীদের সাড়া এবং চাহিদার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও নতুন রুট সংযোজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিষেবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর ভাড়া। উদ্বোধনী অফারে যাত্রীরা মাত্র **৩৯ টাকা** দিয়ে এসি শাটলে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত ফ্ল্যাট ভাড়া **৬৯ টাকা** রাখা হয়েছে। বর্তমান সময়ে অন্যান্য অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহণ বা ব্যক্তিগত গাড়ির তুলনায় এই ভাড়া অনেকটাই সাশ্রয়ী বলে মনে করছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।
শাটল পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যানবাহন। আরামদায়ক আসন, নির্ধারিত সময়সূচি এবং ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থার ফলে যাত্রীরা সহজেই নিজেদের যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারবেন। বিশেষ করে অফিস টাইমে যানজটের মধ্যে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণ হিসেবে এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
যাত্রী সাথী অ্যাপ ইতিমধ্যেই কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে ক্যাব, বাইক ট্যাক্সি, বাস ট্র্যাকিং এবং অন্যান্য পরিষেবার জন্য জনপ্রিয়। এবার সেই প্ল্যাটফর্মেই শাটল বুকিং যুক্ত হওয়ায় যাত্রীদের জন্য একক অ্যাপ থেকেই একাধিক পরিবহণ পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অ্যাপে লাইভ ট্র্যাকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং বুকিং ম্যানেজমেন্টের সুবিধাও রয়েছে।
পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার মতো ব্যস্ত শহরে শেয়ারড এসি শাটল পরিষেবা ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে একদিকে যেমন যানজট কমার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ এবং জ্বালানির ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাওয়ায় কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ হবে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে শহরের গণপরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও রুট, আরও যানবাহন এবং উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করে যাত্রী সাথীকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট মোবিলিটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি এই পরিষেবা প্রত্যাশিত সাড়া পায়, তাহলে কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের এসি শাটল পরিষেবা চালু হতে পারে।


