দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পরিষেবায় শিথিলতা আসতেই কলকাতার হাসপাতালগুলিতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে বিদেশি রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশি রোগীদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ইনডোর রোগী (IPD) ভর্তি এবং চিকিৎসা পরিষেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কলকাতার **মেডিক্যাল ট্যুরিজম** শিল্পে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েক বছরে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য রোগী আসার সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সেই প্রভাব পড়েছিল হাসপাতালগুলির আয় এবং আন্তর্জাতিক রোগী পরিষেবার উপরও। তবে সম্প্রতি চিকিৎসা ও পর্যটন-সংক্রান্ত ভিসা অনুমোদন সহজ হওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।
বাংলাদেশের বহু রোগী দীর্ঘদিন ধরেই জটিল অস্ত্রোপচার, ক্যানসার চিকিৎসা, হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ, কিডনি, অর্থোপেডিকস এবং শিশু চিকিৎসার জন্য কলকাতাকে পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেন। তুলনামূলক কম খরচ, দক্ষ চিকিৎসক, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ভৌগোলিক নৈকট্য—এই চারটি কারণ কলকাতাকে মেডিক্যাল ট্যুরিজমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শহরের একাধিক বড় বেসরকারি হাসপাতালের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক রোগী পরিষেবার জন্য আলাদা বিভাগ ইতিমধ্যেই সক্রিয় করা হয়েছে। ভিসা সহজ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট, অস্ত্রোপচার এবং ভর্তি সংক্রান্ত বুকিংয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। হাসপাতালগুলির আশা, আগামী কয়েক মাসে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রোগীদের মধ্যে কলকাতার হাসপাতালের প্রতি আস্থা দীর্ঘদিনের। ভাষাগত মিল, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার কারণে বহু রোগী অন্য দেশের পরিবর্তে কলকাতাকেই বেছে নেন। ফলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়া অস্বাভাবিক নয়।
ভারত সরকারও মেডিক্যাল ট্যুরিজমকে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের জন্য **ই-মেডিক্যাল ভিসা** এবং **ই-মেডিক্যাল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা**-র সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা আরও সহজ হয়। সরকারের লক্ষ্য, ভারতকে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পরিষেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি রোগীর সংখ্যা বাড়লে শুধু হাসপাতালই নয়, হোটেল, পরিবহণ, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রও আর্থিকভাবে লাভবান হয়। অর্থাৎ মেডিক্যাল ট্যুরিজমের সম্প্রসারণ সামগ্রিক অর্থনীতির উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে কলকাতা আবারও পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে। বাংলাদেশ-সহ প্রতিবেশী দেশগুলির রোগীদের কাছে উন্নত চিকিৎসা, আধুনিক পরিকাঠামো এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচ ভবিষ্যতেও কলকাতার বড় শক্তি হয়ে থাকবে।


