বিশ্ব বাণিজ্যে ফের বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট **ডোনাল্ড ট্রাম্প**। আমদানি করা **জেনেরিক ওষুধের উপর ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (Tariff)** আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য, তাঁর দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশি উৎপাদনের উপর নির্ভরতা কমানো। তবে এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, **১ আগস্ট ২০২৬ থেকে আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের উপর প্রথম দুই বছর কোনও অতিরিক্ত শুল্ক থাকবে না।** এরপর ২০২৮ সাল থেকে এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক এবং তার পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করা হবে। এই সময়সীমা বিদেশি ওষুধ প্রস্তুতকারকদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ দিতেই রাখা হয়েছে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ জেনেরিক ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিদেশি উৎপাদনের উপর নির্ভরতা বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হলে বহু আন্তর্জাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত হবে এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
তবে স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ এবং ওষুধ শিল্পের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের উচ্চ শুল্কের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ রোগীদের উপর পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত প্রেসক্রিপশন ওষুধের প্রায় **৯০ শতাংশই জেনেরিক**, যা তুলনামূলকভাবে কম দামে চিকিৎসা নিশ্চিত করে। আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে অনেক ওষুধের দাম বাড়তে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
এই সিদ্ধান্ত ভারতের ওষুধ শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদক এবং যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারকদের মধ্যে অন্যতম। ফলে ভবিষ্যতে ১০০ বা ২০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের উপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে ভারতের কারখানার উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য নতুন পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
অবশ্য কিছু বিশ্লেষকের মতে, শুল্ক কার্যকর হতে এখনও সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিতে পারে। ফলে নীতির বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে কোম্পানিগুলির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ এবং উৎপাদন কৌশলের উপর।
অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। জমি, কারখানা, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং দক্ষ কর্মী—সব মিলিয়ে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। তাই অল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদন স্থানান্তর করা সব সংস্থার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। এর ফলে বাজারে ওষুধের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ওষুধ শিল্প নয়, বিশ্বব্যাপী ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খলের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত, চীন-সহ বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকারকদের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে, **জেনেরিক ওষুধের উপর ধাপে ধাপে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা বিশ্ব ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।** যদিও নীতিটি ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার কথা, তবুও এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।


