ভারতীয় ক্রিকেট দলে মহম্মদ শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা যত বাড়ছে, ততই সরব হচ্ছেন প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন ভারতের প্রাক্তন ব্যাটার সুরেশ রায়না। তাঁর মতে, এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক কিছু দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে মহম্মদ শামির। তাই তাঁকে উপেক্ষা করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না। বরং ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে অভিজ্ঞ এই পেসারকে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় দলে তরুণ পেসারদের ওপর বেশি ভরসা করা হচ্ছে। নির্বাচকরা আগামী দিনের দল গড়ার পরিকল্পনায় নতুন মুখদের সুযোগ দিচ্ছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শামিকে বারবার দলের বাইরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রায়না। তাঁর মতে, বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মূল্য কখনও কমে না।
রায়না বলেন, মহম্মদ শামি এমন একজন বোলার যিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। নতুন বলে যেমন উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তেমনই ইনিংসের শেষ ওভারগুলিতেও তিনি কার্যকর। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভারতকে বহুবার সাফল্য এনে দিয়েছে। তাই শুধুমাত্র ভবিষ্যতের পরিকল্পনার অজুহাতে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপে শামির পারফরম্যান্স আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে রয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রথম কয়েকটি ম্যাচে সুযোগ না পেলেও দলে ফিরে তিনি সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন এবং একাধিক ম্যাচে একার হাতে ভারতকে জয় এনে দেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে তাঁর ঐতিহাসিক সাত উইকেট এখনও বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।
রায়নার মতে, এমন একজন ক্রিকেটারকে শুধুমাত্র বয়সের নিরিখে বিচার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, যদি কোনও খেলোয়াড় ফিট থাকেন এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করেন, তাহলে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের জন্য অমূল্য সম্পদ হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই।
ভারতীয় দলের বর্তমান পেস আক্রমণে জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ, আর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং আরও কয়েকজন তরুণ বোলার সুযোগ পাচ্ছেন। এই প্রতিযোগিতার মধ্যেই শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচকরা ধীরে ধীরে ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য নতুন বোলিং ইউনিট তৈরি করতে চাইছেন। অন্যদিকে অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারের মত, অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে।
রায়না আরও মনে করেন, বিশ্বকাপের আগে শামিকে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে দেওয়া হলে তাঁর ম্যাচ ফিটনেস এবং ছন্দ বজায় থাকবে। দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকলে বড় টুর্নামেন্টে সরাসরি প্রত্যাবর্তন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তাঁকে নিয়মিত দলে রাখা এবং ম্যাচের সুযোগ দেওয়া ভারতের জন্যই লাভজনক হতে পারে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় দলের নির্বাচকদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ভবিষ্যতের দল গড়া এবং বর্তমানের সেরা ক্রিকেটারদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। একদিকে তরুণদের তৈরি করতে হবে, অন্যদিকে অভিজ্ঞদের দক্ষতাকেও কাজে লাগাতে হবে। এই দুইয়ের সমন্বয়ই বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মহম্মদ শামির আন্তর্জাতিক দলে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া নিয়ে ক্রিকেট মহলে নানা আলোচনা চলছে। যদিও নির্বাচকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ফিটনেসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও শামির মতো অভিজ্ঞ বোলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত।
২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ এখনও কিছুটা দূরে। তবে সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ভারতীয় দলের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মহম্মদ শামিকে আবারও নিয়মিত নীল জার্সিতে দেখা যাবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে সুরেশ রায়নার বক্তব্য নতুন করে এই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে যে, অভিজ্ঞতার মূল্য কি সত্যিই কমে গিয়েছে, নাকি ভারতীয় দল এখনও শামির মতো ম্যাচজয়ী বোলারের অপেক্ষায় রয়েছে।


