অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর ভারতীয় বোলারদের দুরন্ত পারফরম্যান্স। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানকে ১২৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেল ভারত। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের মতো তৃতীয় ম্যাচেও আফগানিস্তানকে কার্যত একতরফাভাবে পরাজিত করল টিম ইন্ডিয়া। ব্যাট হাতে অভিষেক শর্মার রেকর্ড গড়া শতরানের পর বল হাতে ভারতীয় বোলাররা আফগান ব্যাটিং অর্ডারকে কোনও সুযোগই দেননি।
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। ওপেনিং জুটিতে অভিষেক শর্মা নিজের স্বাভাবিক আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেন। পাওয়ারপ্লে থেকেই আফগান বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কা আসতে থাকে। ফলে দ্রুত রান তুলতে থাকে ভারত।
এই ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩০ বলে শতরান পূর্ণ করে নতুন নজির গড়েন ভারতীয় বাঁহাতি ব্যাটার। টি-২০ ক্রিকেটে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের কোনও প্রতিনিধির করা দ্রুততম শতরানের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ১১টি ছক্কা। আফগানিস্তানের বোলারদের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাটিং ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন আক্রমণের উদাহরণ।
অভিষেকের ব্যাটিংয়ের সামনে আফগানিস্তানের বোলাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। গতি, সুইং বা স্পিন—কোনও অস্ত্রই তাঁকে থামাতে পারেনি। মাঠের চারদিকে শট খেলেছেন তিনি। বিশেষ করে ছক্কার বন্যায় অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম একসময় রীতিমতো উৎসবের চেহারা নেয়। তাঁর দ্রুত শতরান ভারতকে বড় রানের ভিত তৈরি করে দেয়। আগের ম্যাচগুলিতেও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অভিষেক এই ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্সকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন।
অভিষেকের পাশাপাশি ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের অন্যরাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান তোলে। ফলে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ২২২ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড়ায়। টি-২০ ক্রিকেটে এই রান তাড়া করা যে সহজ হবে না, তা ম্যাচের মাঝপথেই স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে ভারতীয় বোলাররা যেভাবে শুরু করেন, তাতে আফগানিস্তানের রান তাড়া করার সম্ভাবনা আরও দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
২২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিতে থাকেন। আফগান ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগ দেননি তাঁরা। একদিকে যেমন রান আটকানো হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ভারত। আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে ভেঙে পড়ে।
ভারতের পেসার এবং স্পিনার—দুই বিভাগই এই ম্যাচে নজর কাড়ে। নতুন বল হাতে ভারতীয় বোলাররা আফগানিস্তানের টপ অর্ডারকে সমস্যায় ফেলেন। পরে স্পিনাররাও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। উইকেটের গতি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করে আফগান ব্যাটারদের চাপে রাখেন তাঁরা। ফলে বড় রান তাড়া করতে নেমে প্রয়োজনীয় পার্টনারশিপ গড়তে পারেনি আফগানিস্তান।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি আফগানিস্তান। ১২৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে আফগানিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে চুনকাম করল শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। প্রথম দুই ম্যাচেও ভারত সহজ জয় পেয়েছিল। তৃতীয় ম্যাচে সেই ধারাই বজায় থাকল। সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই ভারতীয় দলের ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগ সমানভাবে কার্যকর ছিল।
এই সিরিজে ভারতের হয়ে অভিষেক শর্মার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথম ম্যাচে ৩২ বলে ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পর তৃতীয় ম্যাচে ৩৪ বলে ১০৮ রান করেছেন তিনি। অর্থাৎ সিরিজের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন এই তরুণ ব্যাটার। তৃতীয় ম্যাচে তাঁর রেকর্ড গড়া শতরান ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অন্যতম বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকল।
শুধু অভিষেকের ব্যাটিং নয়, দলের বোলিং পারফরম্যান্সও ভারতকে এই বড় জয় এনে দিয়েছে। বড় রান তোলার পর ভারতীয় বোলাররা প্রতিপক্ষকে কোনওরকম স্বস্তি দেননি। নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে তাঁরা আফগানিস্তানের রান তাড়া করার পরিকল্পনা ভেস্তে দেন। ফলে ম্যাচের শেষ দিকে ভারতের জয় নিয়ে আর কোনও সংশয় ছিল না।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই সিরিজ জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। বিশেষ করে টি-২০ ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলা, চাপের মধ্যে উইকেট নেওয়া এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভারতীয় দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়। অভিষেক শর্মার রেকর্ড গড়া শতরান এই জয়ের মূল আকর্ষণ হলেও, দলগত পারফরম্যান্সের কারণেই ভারত ১২৭ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।
সিরিজের শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও বাজিমাত করে ভারত। অভিষেকের ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস এবং বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে আফগানিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করে টিম ইন্ডিয়া। তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ভারত। এই জয় যেমন সিরিজে পূর্ণ আধিপত্যের প্রমাণ, তেমনই অভিষেক শর্মার রেকর্ড গড়া ইনিংস ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিল।


