রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সাম্প্রতিক আন্দোলন ঘিরে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভস্থলে স্থাপিত ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS)-এর মাধ্যমে ২,৫০০-রও বেশি এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার রেকর্ড রয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলন-সংক্রান্ত ঘটনায় একাধিক এফআইআর দায়ের করে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, বড় জনসমাগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজর রাখতেই উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের সময় প্রবেশ ও প্রস্থানের বিভিন্ন পয়েন্টে ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা বসানো হয়, যা পুলিশের ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। ওই প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের আরও দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু জায়গায় সংঘর্ষ, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসে। সেই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে মোট ১৫টি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বহু ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনের সংগঠকদের বক্তব্য, তাঁদের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণভাবে দাবি-দাওয়া তুলে ধরা। কোনও ধরনের হিংসা বা ভাঙচুরকে তারা সমর্থন করে না বলেও দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মনে করছেন, প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া উচিত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জনসমাগমে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করলেও, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন প্রযুক্তির ব্যবহার আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যেই হওয়া উচিত বলে মত তাঁদের।
এদিকে আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, ভিডিও ফুটেজ এবং ডিজিটাল তথ্য মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণ চিত্র পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে, অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে যে আইন সবার জন্য সমান এবং কোনও অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে, সিজেপি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রযুক্তির সাহায্যে সংগৃহীত তথ্য, দায়ের হওয়া এফআইআর এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।


