দুর্গাপুজোর আগে রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পুজোর কেনাকাটা, বাড়িঘর পরিষ্কার, অতিথি আপ্যায়ন এবং একাধিক সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে এই সময়ে পরিবারের খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। তার উপর রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। তাই নতুন মাসে LPG সিলিন্ডারের দাম কত থাকছে, কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা জানতে চাইছেন গ্রাহকেরা।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় ১৪.২ কেজি ওজনের ঘরোয়া LPG সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এই দামেই গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলে বিভিন্ন জ্বালানি মূল্যতালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার সাধারণ গৃহস্থ গ্রাহকদের জন্য ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দামে আপাতত বড় কোনও পরিবর্তনের খবর নেই। তবে গ্যাসের দাম মাসভিত্তিক সংশোধিত হতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে চূড়ান্ত দাম জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও LPG-র দাম পরিবহণ খরচ, স্থানীয় কর এবং ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার কারণে সামান্য আলাদা হতে পারে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ডেলিভারি চার্জ বা অন্যান্য নির্ধারিত খরচ যুক্ত হলে মোট বিলের অঙ্কে কিছুটা পার্থক্য দেখা দিতে পারে। ফলে শুধুমাত্র সিলিন্ডারের মূল দাম নয়, ডেলিভারির সময় গ্রাহককে মোট কত টাকা দিতে হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করা জরুরি।
ঘরোয়া LPG সিলিন্ডারের পাশাপাশি বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও নজরে রয়েছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সংস্থা এবং খাবারের ব্যবসার ক্ষেত্রে সাধারণত ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। এই সিলিন্ডারের দাম ঘরোয়া LPG-র তুলনায় অনেক বেশি এবং আন্তর্জাতিক বাজার, অপরিশোধিত তেলের দাম, আমদানি খরচ ও সরবরাহ পরিস্থিতির উপর তা নির্ভর করে। কলকাতায় বাণিজ্যিক LPG-র দামও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মূল্যতালিকায় ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৩,২৫৫ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি খাবারের ব্যবসায় পড়ে। রেস্তোরাঁ বা ছোট খাবারের দোকানের রান্নার খরচ বেড়ে গেলে অনেক সময় খাবারের দামও বাড়তে পারে। পুজোর সময় যখন বাইরে খাওয়াদাওয়া ও ক্যাটারিংয়ের চাহিদা বেড়ে যায়, তখন বাণিজ্যিক LPG-র দামের পরিবর্তন ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক নয়—এই বিষয়টি গ্রাহকদের মনে রাখা প্রয়োজন।
LPG-র দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় কাজ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য, ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হার, আমদানি খরচ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর রান্নার গ্যাসের দাম নির্ভরশীল। ভারতকে রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ LPG আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়তে পারে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকি ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট যোগ্যতার গ্রাহকেরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী LPG ভর্তুকি পেতে পারেন। তবে ভর্তুকির পরিমাণ, যোগ্যতা এবং টাকা পাওয়ার নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই গ্রাহকদের নিজেদের সংযোগের সঙ্গে ভর্তুকি সুবিধা চালু রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট গ্যাস সংস্থার অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। শুধুমাত্র সরকারি বা অনুমোদিত গ্যাস সংস্থার অ্যাপ, ওয়েবসাইট, ডিস্ট্রিবিউটর কিংবা নির্দিষ্ট বুকিং নম্বর ব্যবহার করা নিরাপদ। অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করে OTP, ব্যাংকের তথ্য বা ব্যক্তিগত নথি দেওয়া উচিত নয়। ডেলিভারির সময় সিলিন্ডারের সিল অক্ষত রয়েছে কি না এবং ওজন ঠিক আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা যেতে পারে।
পুজোর আগে বাড়িতে অতিথি সমাগম বাড়ার কারণে অনেক পরিবারে গ্যাসের ব্যবহারও বেড়ে যায়। তাই শেষ মুহূর্তে বুকিং না করে প্রয়োজন অনুযায়ী আগে থেকেই সিলিন্ডার বুক করে রাখা ভালো। তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করার বদলে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করাই নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় ঘরোয়া ১৪.২ কেজি LPG সিলিন্ডারের দাম আপাতত ৯৬৮ টাকা রয়েছে বলে সাম্প্রতিক মূল্যতথ্যে জানা যাচ্ছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি এবং তা ব্যবসায়িক খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী মাসে আন্তর্জাতিক বাজার বা সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে দাম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই গ্রাহকদের গ্যাস বুকিংয়ের আগে সর্বশেষ মূল্যতালিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


