দেশজুড়ে **E20 (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল)** নিয়ে বিতর্ক যত বাড়ছে, ততই বেড়ে চলেছে **ইথানল-মুক্ত বা ১০০ অকটেন প্রিমিয়াম পেট্রোলের চাহিদা**। বিশেষ করে পুরনো পেট্রোলচালিত গাড়ির মালিকদের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, E20 জ্বালানি তাঁদের গাড়ির ইঞ্জিন, ফুয়েল সিস্টেম বা মাইলেজের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই অনেক চালক বিকল্প হিসেবে ইথানল-মুক্ত প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন শহরে প্রিমিয়াম **১০০ অকটেন পেট্রোলের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ** হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে দিল্লি-সহ বড় শহরগুলিতে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক গাড়ির মালিক সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবি ও উদ্বেগের জেরে ইথানল-মুক্ত জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমের তথ্যের উপর নির্ভর না করে গাড়ি নির্মাতা সংস্থার নির্দেশিকা অনুসরণ করাই উচিত।
ভারত সরকার ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে **E20 পেট্রোল** চালু করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, কৃষকদের কাছ থেকে আখ ও অন্যান্য কাঁচামালের চাহিদা বাড়ানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা। সরকারের মতে, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
তবে E20 নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে। অনেক গাড়ির মালিকের আশঙ্কা, পুরনো মডেলের গাড়িতে E20 ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে অথবা জ্বালানির দক্ষতা কমে যেতে পারে। এই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী **নিতিন গডকরি** সংসদে জানিয়েছেন, E20 ব্যবহারে গাড়িভেদে **২ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে**, তবে দীর্ঘ পরীক্ষার পরও **ইঞ্জিন বিকলের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি**।
এদিকে **পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক**ও সম্প্রতি E20 নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দাবির জবাব দিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, ২০২৩ সালের আগের বহু পেট্রোল গাড়িও E20 ব্যবহার করতে সক্ষম, যদিও কিছু ক্ষেত্রে সামান্য মাইলেজের পার্থক্য দেখা যেতে পারে। সরকার আরও জানিয়েছে, E20 ব্যবহারে পুরনো সব গাড়ি অচল হয়ে যাবে বা ব্যাপক ইঞ্জিন ক্ষতি হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।
অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, সব গাড়ির প্রযুক্তি এক নয়। তাই কোনও গাড়িতে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত, তা সংশ্লিষ্ট নির্মাতা সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। অনেক নতুন BS-VI গাড়ি E20-উপযোগী করে তৈরি হয়েছে। তবে পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, কিছু প্রিমিয়াম জ্বালানি যেমন **১০০ অকটেন পেট্রোল** বর্তমানে ইথানল-মুক্ত হওয়ায় তার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তবে এই ধরনের জ্বালানির দাম সাধারণ E20 পেট্রোলের তুলনায় বেশি। ফলে প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য অনেক গ্রাহকের পক্ষে এটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা ব্যয়বহুল হতে পারে।
সরকার স্পষ্ট করেছে, **বর্তমানে E20-এর বেশি ইথানল মিশ্রণের কোনও পরিকল্পনা নেই**। অর্থাৎ আপাতত E25 বা তার বেশি মিশ্রণের দিকে যাওয়া হচ্ছে না। এর মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, E20 নিয়ে বিতর্ক চললেও বৈজ্ঞানিক তথ্য, সরকারি নির্দেশিকা এবং গাড়ি প্রস্তুতকারকের পরামর্শ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। একই সঙ্গে ইথানল-মুক্ত পেট্রোলের চাহিদা বৃদ্ধি প্রমাণ করছে যে, গ্রাহকদের মধ্যে বিকল্প জ্বালানির প্রতি আগ্রহ এবং সচেতনতা দুটোই বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, **E20 পেট্রোল নিয়ে উদ্বেগের আবহে দেশে ইথানল-মুক্ত প্রিমিয়াম পেট্রোলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।** যদিও সরকার E20-কে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বলেই দাবি করছে, তবুও অনেক গাড়ির মালিক এখনও বিকল্প জ্বালানির দিকেই ঝুঁকছেন। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে অটোমোবাইল শিল্প এবং সাধারণ গ্রাহকদের।


