দেশজুড়ে **E20 (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল)** ব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এবার সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সরকারের দাবি, **E20 পেট্রোল ব্যবহারে কিছু পুরনো গাড়িতে সামান্য মাইলেজ কমতে পারে, তবে ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতি বা বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যার কোনও প্রমাণ মেলেনি।**
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব গাড়ি মূলত **E10 (১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল)**-এর জন্য তৈরি, সেগুলিতে E20 ব্যবহারের ফলে **প্রায় ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি দক্ষতা (মাইলেজ) কমে যেতে পারে**। তবে এটি সব গাড়ির ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। গাড়ির অবস্থা, ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ, চালানোর ধরন, টায়ারের চাপ, হুইল অ্যালাইনমেন্ট এবং এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের মতো বিষয়গুলিও মাইলেজের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সরকার আরও জানিয়েছে, দেশজুড়ে কোটি কোটি যানবাহনে E20 জ্বালানি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ভিত্তিতে **ইঞ্জিন নষ্ট হওয়া বা ব্যাপক যান্ত্রিক ত্রুটির কোনও যাচাইকৃত প্রমাণ পাওয়া যায়নি**। তাই শুধুমাত্র E20 ব্যবহারের কারণে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হবে— এমন আশঙ্কার পক্ষে বর্তমানে কোনও নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য নেই।
E20 পেট্রোল চালুর মূল উদ্দেশ্য হল **আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমানো**, পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং দেশের ইথানল উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া। কেন্দ্রের মতে, এতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, কারণ আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্য থেকে ইথানল উৎপাদনের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের অধিকাংশ গাড়ি ও মোটরসাইকেল **E20-সামঞ্জস্যপূর্ণ** হিসেবেই বাজারে আসছে। ফলে নতুন যানবাহনের ক্ষেত্রে উদ্বেগ তুলনামূলকভাবে কম। তবে পুরনো মডেলের গাড়ির মালিকদের উচিত তাঁদের গাড়ির প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা দেখে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে সার্ভিসিং করানো।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ইথানলে অকটেন সংখ্যা বেশি হলেও এর শক্তিমান (energy content) সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় কিছুটা কম। সেই কারণেই কিছু গাড়িতে সামান্য মাইলেজ কম দেখা যেতে পারে। তবে এটি ইঞ্জিনের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
সংসদে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট করেছে যে, **বর্তমানে E20-এর চেয়ে বেশি ইথানল মিশ্রণের কোনও পরিকল্পনা নেই**। ভবিষ্যতে যদি এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিল্প সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।
অর্থনীতি ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, E20 ব্যবহারের ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি আমদানি বিল কমতে পারে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে। তবে একই সঙ্গে গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য সম্পর্কেও পরিষ্কার তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, **E20 পেট্রোল নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের জবাবে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, কিছু পুরনো গাড়িতে ৩–৫ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে, কিন্তু ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতির কোনও প্রমাণ নেই।** ফলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে এবং গাড়ির নির্মাতার নির্দেশিকা অনুসরণ করেই E20 ব্যবহার করা উচিত।


