অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই এবার আরও সক্রিয় হল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যাঁরা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম নথিভুক্ত করেননি বা আবেদন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পূর্ণ করেননি, তাঁদের আগামী **১০ দিনের মধ্যে** সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য জমা না দিলে আবেদন যাচাই প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সরকারি সূত্রের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর পর বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনগুলির ডিজিটাল যাচাই, নথিপত্র পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কাজ চলছে। এই কারণেই অসম্পূর্ণ আবেদন বা ভুল তথ্য থাকা ফর্ম দ্রুত সংশোধনের জন্য আবেদনকারীদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে বঞ্চিত করা নয়। বরং প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এজন্য আবেদনপত্রে থাকা তথ্য, আধার সংযুক্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, কিছু আবেদন প্রাথমিক পর্যায়ে অসম্পূর্ণ তথ্য, নথির অসঙ্গতি কিংবা যাচাই-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আটকে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আগামী দশ দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হলে দ্রুত যাচাই শেষ করে উপযুক্ত আবেদনকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, জেলার প্রশাসনিক দপ্তর, ব্লক অফিস এবং জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে আবেদন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাঁদের অনলাইন আবেদন করতে অসুবিধা হয়েছে বা অফলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের তথ্যও দ্রুত ডিজিটাইজ করার কাজ চলছে। এতে আবেদন যাচাইয়ের গতি আরও বাড়বে বলে প্রশাসনের আশা।
অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে যোগ্য মহিলাদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরও শুরু হয়েছে। তবে এখনও যাঁদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাঁদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
প্রশাসনের একাংশের মতে, এত বড় একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রতিটি আবেদন একাধিক স্তরে যাচাই করা হচ্ছে। এতে কিছুটা সময় লাগলেও ভবিষ্যতে ভুয়ো আবেদন বা অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে।
এদিকে বিভিন্ন জেলায় আবেদন সংক্রান্ত সমস্যা, ব্যাংক সংযোগ, আধার লিঙ্কিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত জটিলতা দূর করার জন্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদেরও সরকারি নির্দেশিকা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়সীমা নির্ধারণের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে ইচ্ছুক যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য আগামী দশ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সম্পূর্ণ করলে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে এবং যোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি সুবিধা পাওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবেন।


