অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও পাননি শিলিগুড়ির এমন মহিলাদের জন্য বড় বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। যাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এখনও এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাননি, তাঁদের দ্রুত বিধায়কের দপ্তরে গিয়ে নিজেদের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর আশ্বাস, টাকা না পাওয়ায় কোনওভাবেই আতঙ্কিত বা হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁরা প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য, তাঁরা পরবর্তী সময়ে আর্থিক সুবিধা পাবেন। তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত জমা দেওয়া জরুরি।
রবিবার কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে একটি লাইভ করেন শংকর ঘোষ। সেখানেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা না পাওয়া আবেদনকারীদের উদ্দেশে তিনি বিস্তারিত বার্তা দেন। মন্ত্রী জানান, যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁরা হিলকার্ট রোডে তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ে গিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তিনি তা রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
শংকর ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর দেড়টার মধ্যে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি, তাঁদের আর অপেক্ষা না করে দ্রুত বিধায়ক কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রীর উদ্দেশ্য হল, যাঁরা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন তাঁদের তথ্য এক জায়গায় সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাঠানো এবং সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা।
অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে শিলিগুড়িতে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিলিগুড়ি শহরে প্রায় ৩৫ হাজার মহিলা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু একইসঙ্গে এমন বহু মহিলা রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের যোগ্য মনে করলেও এখনও টাকা হাতে পাননি। টাকা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কেউ পুরনিগমে, আবার কেউ মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ বা বিক্ষোভ জানিয়েছেন। ফলে প্রকল্পের সুবিধাভোগী এবং এখনও টাকা না পাওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হন শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। সম্প্রতি তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্টিকার লাগানোর কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাঁর কাছে বেশ কয়েকজন মহিলা অভিযোগ করেন যে তাঁরা এখনও প্রকল্পের টাকা পাননি। তাঁদের বক্তব্য শোনার পরই বঞ্চিত বা টাকা না পাওয়া আবেদনকারীদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বাড়ি বাড়ি স্টিকার লাগানোর কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা। প্রকল্পের আওতায় যাঁরা সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের বাড়িতে প্রকল্পের পরিচয় সংক্রান্ত স্টিকার লাগানোর কাজ শুরু হয়। সেই কর্মসূচির সময় মন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়। তখনই সামনে আসে এমন বহু আবেদনকারীর অভিযোগ, যাঁরা এখনও টাকা পাননি। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করার পাশাপাশি বিধায়ক কার্যালয়ে তথ্য জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শংকর ঘোষ তাঁর লাইভ বার্তায় আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, যাঁরা টাকা পাননি তাঁদের ঘাবড়ানোর কোনও কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিলিগুড়িতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৫ হাজার মহিলা প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। বাকিরাও ধীরে ধীরে টাকা পাবেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বা তথ্যগত সমস্যার কারণে টাকা পৌঁছতে দেরি হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাই প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিলে পরবর্তী প্রক্রিয়াটি তিনি নিজের দিক থেকে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এখানে আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঠিক তথ্য জমা দেওয়া। নাম, প্রয়োজনীয় পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রকল্পের আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সঠিকভাবে জমা না হলে যাচাই প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই বিধায়ক কার্যালয়ে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সঙ্গে রাখার পরামর্শই কার্যত দেওয়া হয়েছে। যদিও ঠিক কোন কোন নথি জমা দিতে হবে, সেই সম্পূর্ণ তালিকা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আবেদনকারীদের দপ্তরে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, শংকর ঘোষের এই উদ্যোগ সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ টাকা না পাওয়া মহিলাদের একাংশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ সরাসরি সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিলে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের বাড়িতে স্টিকার লাগানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সুবিধাভোগীদের বাড়িতে স্টিকার লাগানোর মাধ্যমে প্রকল্পের সঙ্গে তাঁদের সংযোগ দৃশ্যমান করা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে যাঁরা যোগ্য হয়েও সুবিধা পাননি, তাঁদের বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শংকর ঘোষও জানিয়েছেন, যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি কোনও আর্থিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবেদন, যাচাই এবং টাকা পাঠানোর মধ্যে একাধিক ধাপ থাকতে পারে। ফলে আবেদন করার পর সঙ্গে সঙ্গে টাকা না পৌঁছনোর বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে। নথি যাচাই, তথ্যের মিল না থাকা, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত সমস্যা বা আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনও ঘাটতির কারণে বিলম্ব হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনও আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে টাকা আটকে রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যাচাই ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
শিলিগুড়িতে অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে মন্ত্রীর সক্রিয়তা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে তিনি সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে প্রকল্পের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছেন। সেই যোগাযোগ থেকেই টাকা না পাওয়া আবেদনকারীদের বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শংকর ঘোষের বক্তব্যে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট—যাঁরা ইতিমধ্যে টাকা পেয়েছেন, তাঁদেরও সহযোগিতা করতে বলেছেন তিনি। প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বাড়িতে ওয়ার্ডের কর্মীরা গেলে স্টিকার লাগানোর কাজে সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের মন খারাপ না করার অনুরোধও করেছেন। তাঁর বার্তা, দেরি হলেও যোগ্য আবেদনকারীরা সুবিধা পাবেন।
তবে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজেদের দিক থেকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সরকারি প্রকল্পের নামে কেউ যদি ব্যক্তিগত ব্যাঙ্কের তথ্য, OTP, PIN বা অন্য কোনও গোপন তথ্য চায়, তা দেওয়া উচিত নয়। কোনও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা বা অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগ করে নেওয়াও নিরাপদ নয়। প্রকল্প সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে সরাসরি সরকারি দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট বিধায়ক কার্যালয়ে যোগাযোগ করাই নিরাপদ পদ্ধতি।
শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে বর্তমানে মূল প্রশ্ন হল, যাঁরা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি তাঁদের মধ্যে কতজন প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য এবং তাঁদের কত দ্রুত টাকা দেওয়া সম্ভব হবে। বিধায়ক কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহের পর সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলে প্রশাসনের কাছে বঞ্চিত আবেদনকারীদের একটি আলাদা তালিকা তৈরি হতে পারে। এরপর যাচাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোতে পারে।
এই উদ্যোগ রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্রকল্প ঘোষণা করলেই হয় না, বাস্তবে যোগ্য মানুষ টাকা পাচ্ছেন কি না সেটিও নজরে রাখা প্রয়োজন। শংকর ঘোষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগ শোনার উদ্যোগ সেই মাঠপর্যায়ের নজরদারির অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, প্রকল্পের টাকা না পাওয়া নিয়ে যাঁরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য বিধায়ক কার্যালয়ে সরাসরি তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ নতুন একটি পথ তৈরি করেছে। এতে তাঁদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরেরই।
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও না পাওয়া শিলিগুড়ির মহিলাদের জন্য আপাতত স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। তাঁর আবেদন, দ্রুত হিলকার্ট রোডের বিধায়ক কার্যালয়ে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে। সেই তথ্য নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শিলিগুড়িতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৫ হাজার মহিলা সুবিধা পেয়েছেন বলে মন্ত্রীর বক্তব্য। ফলে যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—দেরি হলেও যোগ্য আবেদনকারীরা সুবিধা পাবেন, তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।


