প্রধান নির্বাচন কমিশনার **জ্ঞানেশ কুমার**কে অপসারণের সম্ভাব্য প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। এই আবহেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক **এম এ বেবি**কে ফোন করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী **মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়**। বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন দলকে একসঙ্গে এনে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কে অভিন্ন অবস্থান গড়ে তোলার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই ফোনালাপ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
### কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ফোনালাপ?
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে একাধিক বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (Special Summary Revision বা SSR) নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বিরোধী জোট **INDIA**-র দলগুলিকে একসঙ্গে বসে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অপসারণের নোটিশ আনার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে।
### মমতার সঙ্গে এম এ বেবির আলোচনা
সূত্রের খবর, এম এ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপটেই এই আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও এই ফোনালাপের পর কোনও যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি, তবুও বিরোধী রাজনীতিতে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
### এম এ বেবির কী প্রস্তাব?
সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির উদ্বেগকে সামনে রেখে INDIA জোটের দলগুলির একসঙ্গে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা উচিত।
তাঁর মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।
### মদন সালিমের বক্তব্য
এদিকে সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক **মহম্মদ সেলিম**ও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠিয়ে এই ইস্যুতে একসঙ্গে আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্যোগকে কোনও নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা বলেই তিনি বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন। একইসঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
### নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ। বিরোধী নেতাদের একাংশের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নোট, পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং লিখিত মতামত একটি বহু-সদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
### বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবির এই যোগাযোগকে অনেকেই বিরোধী রাজনীতির বৃহত্তর সমন্বয়ের প্রেক্ষাপটে দেখছেন। যদিও সিপিএম নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে যে এই উদ্যোগ কোনও নির্বাচনী জোটের ইঙ্গিত নয়, তবুও সাংবিধানিক প্রশ্নে বিভিন্ন বিরোধী দলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলমান বিতর্কে বিভিন্ন দল আলাদা আলাদা বক্তব্য রাখলেও, কিছু ক্ষেত্রে অভিন্ন অবস্থান তৈরির চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
### সামনে কী হতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিতর্ক এবং বিরোধী দলগুলির সম্ভাব্য যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় কোনও উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
তবে আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবির ফোনালাপ এই বিতর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


