পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরের এক জনসভা থেকে তিনি “আজাদি” স্লোগানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আজাদি মানে স্বাধীনতা, তাই এই শব্দ উচ্চারণে আপত্তির কোনও কারণ নেই।” একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক, বিরোধী দলগুলির সম্ভাব্য ঐক্য এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্নও তোলেন।
শনিবার শ্রীরামপুরের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনও নির্দিষ্ট ইস্যুতে যদি একাধিক রাজনৈতিক দলের মত এক হয়, তবে দলীয় পরিচয়কে সামনে না এনে সেই বিষয়েই যৌথভাবে লড়াই করা উচিত। তাঁর কথায়, “ইস্যু এক হলে কোনও দল দেখব না। কে কোন দল করছে, সেটা দেখার দরকার নেই। একসঙ্গে সেই ইস্যুতে লড়তে হবে।”
### “আজাদি” নিয়ে কী বললেন মমতা?
সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কেন আজাদি বলবে না? একশোবার বলবে। আজাদির মানে তো স্বাধীনতা। তা কেন বলা যাবে না?” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএমের যুব সংগঠনের কর্মীদের মুখে শোনা যাওয়া “আজাদি” স্লোগান নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মমতার বক্তব্যে সেই স্লোগানকে স্বাধীনতার অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
### নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রসঙ্গ
নিজের বক্তব্যে তিনি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন। তাঁর দাবি, সেই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি একসঙ্গে অংশ নিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা সবাই ছিলাম, তাহলে কেন শুধু নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হল?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
### নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে বিরোধীদের তৎপরতা
সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলির মধ্যে আলোচনার পর্ব শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই বিষয়ে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে তাঁর ফোনে ও চিঠির মাধ্যমে কথা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগসহ নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে বিরোধীরা যৌথ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে।
### দিল্লিতে বিরোধী বৈঠক
এই ইস্যুকে সামনে রেখেই আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির একটি বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় স্তরে বিরোধী সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত এই বৈঠক দিতে পারে।
### ভোট নিয়ে মমতার দাবি
শ্রীরামপুরের সভায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, তাঁদের দল “হারেনি, হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার কারণে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল এবং সেই কারণেই অনেক মানুষ ভোট দিতে পারেননি। তাঁর মতে, এই বিষয়টি নিয়েই বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হচ্ছে।
### রাজনৈতিক বার্তার তাৎপর্য
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বাম শিবিরের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার খবর সামনে এসেছে। শ্রীরামপুরের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দলগুলির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে অব্যাহত রয়েছে, সেটিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


