ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ব্যাট হাতে যেন রানের উৎসব করল ভারত। তিরুবনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিরাট কোহলি ও শুভমান গিল-এর জোড়া শতরানের সৌজন্যে ২৯৬ রানের লক্ষ্য সহজেই টপকে যায় ভারত। আট উইকেটের দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।
এই ম্যাচ শুধু ভারতের জয়ের জন্য নয়, বিরাট কোহলির ঐতিহাসিক ১৫ হাজার ওডিআই রান পূরণের কৃতিত্ব এবং শুভমান গিলের অধিনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত শতরানের জন্যও বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
### ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াই
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৯৫ রান তোলে। শুরুতে ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুললেও ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা মাঝের ওভারগুলোতে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়ান।
তাদের ব্যাটিংয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ওঠে, যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। তবে শেষের দিকে ভারতীয় বোলাররা রান আটকে রাখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০০-এর গণ্ডি পেরোতে পারেনি।
### রোহিতের শুরু, তারপর কোহলি-গিলের শাসন
২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। রোহিত শর্মা দ্রুত কিছু আকর্ষণীয় শট খেললেও ৩২ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক শুভমান গিল ও বিরাট কোহলি। দুজনেই ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন, তারপর ক্যারিবিয়ান বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেন।
প্রথমে দুজনেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। এরপর সেই ইনিংসকে শতরানে রূপান্তরিত করে ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।
### বিরাটের ঐতিহাসিক দিন
এই ম্যাচে বিরাট কোহলি একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। তিনি ওডিআই ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং মাত্র ৩০৩ ইনিংসে এই কৃতিত্ব অর্জন করে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল শচীন তেন্ডুলকরের দখলে, যিনি ৩৭৭ ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন।
কোহলি শুধু মাইলফলকেই থামেননি। তিনি অপরাজিত ১৩৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ইনিংসজুড়ে তাঁর কভার ড্রাইভ, স্ট্রেট ড্রাইভ এবং স্পিনারদের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং দর্শকদের মুগ্ধ করে।
### অধিনায়ক গিলের জবাব
শুভমান গিলও অধিনায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্ব অসাধারণভাবে পালন করেন। তিনি ১১০ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন এবং কোহলির সঙ্গে বিশাল জুটি গড়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।
এই শতরান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলের নেতৃত্বে তাঁর পরিণত ব্যাটিংয়েরও প্রমাণ। চাপের পরিস্থিতিতে ইনিংস গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনমতো আক্রমণাত্মক ক্রিকেটও খেলেছেন তিনি।
### ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
রোহিতের উইকেট পড়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে। কিন্তু কোহলি ও গিল দ্বিতীয় উইকেটে এমন এক জুটি গড়েন, যার সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণ কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।
দুজনের বোঝাপড়া, উইকেটের মধ্যে দ্রুত দৌড় এবং খারাপ বলকে বাউন্ডারিতে পাঠানোর দক্ষতা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত হাতে আট উইকেট রেখেই ভারত লক্ষ্য পূরণ করে ফেলে।
### ভারতীয় দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা
এই জয় ভারতের জন্য একাধিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে রোহিত শর্মার প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে শুভমান গিলের নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং এবং বিরাট কোহলির দুর্দান্ত ফর্ম—সব মিলিয়ে দলকে শক্তিশালী দেখিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় রান তাড়া করে এত সহজে জয় তুলে নেওয়া প্রমাণ করে যে ভারতীয় ব্যাটিং ইউনিট বর্তমানে যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
### সিরিজে এগিয়ে ভারত
প্রথম ম্যাচে এই দাপুটে জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে ভারত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। এখন দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নামবে শুভমান গিলের দল। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে সিরিজে টিকে থাকার জন্য পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকবে না।


