শিয়ালদহ ডিভিশনের যাত্রীদের জন্য ফের বড়সড় ভোগান্তির আশঙ্কা। সপ্তাহান্তে শিয়ালদহ স্টেশনে সাত ঘণ্টার মেগা ট্রাফিক ব্লক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য এই ব্লক নেওয়া হচ্ছে। এর জেরে শনিবার ও রবিবার একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হবে। কিছু ট্রেনের যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত করা হতে পারে। ফলে সপ্তাহান্তে যাঁরা শিয়ালদহ শাখার বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করবেন, তাঁদের আগে থেকেই ট্রেনের সময়সূচি দেখে বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, **৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর** শিয়ালদহ স্টেশনে রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট **৪২০ মিনিট বা সাত ঘণ্টার পাওয়ার ও ট্রাফিক ব্লক** থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট অংশে রক্ষণাবেক্ষণ এবং ট্র্যাক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হবে। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে কাজ করার ফলে স্বাভাবিক পরিষেবায় প্রভাব পড়বে।
### কেন নেওয়া হচ্ছে এই মেগা ট্রাফিক ব্লক?
রেল পরিষেবার নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর মান উন্নত করার জন্যই এই কাজ বলে জানা গিয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনের ডাউন ও মেন লাইনের নির্দিষ্ট অংশে পুরনো ট্র্যাক সরিয়ে আধুনিক ট্র্যাক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে **৫২ কেজির পুরনো রেল ট্র্যাকের পরিবর্তে ৬০ কেজির ডিএসএস ট্র্যাক** বসানো হবে।
এর পাশাপাশি ট্র্যাকের বিভিন্ন ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট পরিবর্তনের কাজও করা হবে। সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নয়নও এই কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেলের পরিকাঠামো আধুনিক হলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও গতি—দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিষেবার মান উন্নত করাই এই মেগা ব্লকের মূল উদ্দেশ্য।
### কোন কোন লোকাল ট্রেন বাতিল?
মেগা ব্লকের প্রভাব পড়বে শিয়ালদহ থেকে উত্তর ও শহরতলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে। রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী **শিয়ালদহ–হাবড়া, শিয়ালদহ–কল্যাণী সীমান্ত, শিয়ালদহ–ডানকুনি, শিয়ালদহ–রানাঘাট, শিয়ালদহ–বারাসত এবং শিয়ালদহ–দত্তপুকুর** রুটের একাধিক লোকাল বাতিল করা হবে।
এই রুটগুলির উপর প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নিত্যযাত্রী নির্ভর করেন। অফিস, ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী মানুষের কাছে শিয়ালদহ শাখার লোকাল ট্রেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সপ্তাহান্ত হলেও একাধিক ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্তে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়তে পারে।
### কিছু ট্রেনের যাত্রাপথও বদলাবে
শুধু ট্রেন বাতিল নয়, কয়েকটি পরিষেবার যাত্রাপথও সাময়িকভাবে সংক্ষিপ্ত করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য **লালগোলা–শিয়ালদহ প্যাসেঞ্জার ট্রেন**। এই ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ে শিয়ালদহ পর্যন্ত না গিয়ে **দমদম জংশনেই যাত্রা শেষ করবে**।
ফলে সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করে রাখতে হতে পারে। বিশেষ করে রাতের দিকে বা ভোরে যাঁরা ট্রেন ধরবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সময়সূচি আগে দেখে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ।
### পরপর ট্রেন বাতিলের জেরে বাড়ছে উদ্বেগ
শিয়ালদহ ডিভিশনে পরিকাঠামোগত কাজের জন্য এর আগেও একাধিকবার মেগা ট্রাফিক ব্লক নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহেও শিয়ালদহ স্টেশনে কয়েক ঘণ্টার ব্লকের কারণে একাধিক লোকাল বাতিল এবং কিছু পরিষেবা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সপ্তাহান্তে একই ধরনের বিধিনিষেধের ঘোষণা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ট্র্যাক ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের কাজ অত্যন্ত জরুরি। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
### যাত্রীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
এই পরিস্থিতিতে শনিবার ও রবিবার শিয়ালদহ শাখায় যাঁদের যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সময়সূচি পরীক্ষা করা উচিত। কোনও ট্রেন বাতিল হয়েছে কি না অথবা তার যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
রেলের তরফে স্টেশনগুলিতে মাইকিং এবং ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে যাত্রীদের পরিবর্তিত পরিষেবা সম্পর্কে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদেরও অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে স্টেশনে পৌঁছনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
### সাময়িক ভোগান্তির পর পরিষেবা আরও নিরাপদ করার লক্ষ্য
শিয়ালদহ স্টেশন কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত রেল টার্মিনাল। এখান থেকে উত্তর ও দক্ষিণ শহরতলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। ফলে স্টেশনের ট্র্যাক ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা সরাসরি বিপুল সংখ্যক যাত্রীর দৈনন্দিন যাতায়াতের সঙ্গে যুক্ত।
সেই কারণেই রেলের এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও মেগা ব্লকের সময়ে ট্রেন বাতিলের কারণে যাত্রীদের সাময়িক দুর্ভোগ পোহাতে হবে, কাজ শেষ হলে উন্নত ট্র্যাক, ফিটিংস ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা ভবিষ্যতে পরিষেবাকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করতে পারে।
তাই সপ্তাহান্তে শিয়ালদহমুখী বা শিয়ালদহ থেকে অন্যত্র যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই ট্রেনের আপডেট দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে হাবড়া, বারাসত, দত্তপুকুর, রানাঘাট, কল্যাণী সীমান্ত, ডানকুনি ও লালগোলা রুটের যাত্রীদের এই মেগা ব্লকের বিষয়টি বিশেষভাবে মাথায় রাখা প্রয়োজন।


