দুর্গাপুজোর ছুটি মানেই বাঙালির কাছে ঘোরাঘুরি, নতুন জায়গা দেখা এবং পরিবারের সঙ্গে কয়েকদিনের জন্য শহরের বাইরে বেরিয়ে পড়া। কেউ পাহাড়ে, কেউ সমুদ্রের ধারে, আবার কেউ দেশের অন্য কোনও প্রান্তে পুজোর ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেন। কিন্তু উৎসবের মরশুমে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলেই প্রথম যে চিন্তাটি সামনে আসে, সেটি হল ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে কি না। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে পুজোর সময় সংরক্ষিত আসনের চাহিদা অত্যন্ত বেড়ে যায়। ফলে বুকিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এবার পুজোর ছুটিতে ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের জন্য রেলের তরফে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। টিকিট বুকিংয়ের সময়সীমায় পরিবর্তন আসায় যাত্রীদের আগেভাগে পরিকল্পনা করে টিকিট কাটতে হবে। পাশাপাশি ভিড় সামাল দিতে পুজোর সময় স্পেশ্যাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ([Bangla Hunt][1])
### পুজোর ছুটিতে কবে যাত্রা করবেন?
এবারের পুজোর ছুটিকে সামনে রেখে বহু মানুষ ইতিমধ্যেই ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পুজোর সময় মূলত ১৪ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। চতুর্থী থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত বিভিন্ন দিনে মানুষ কলকাতা ও রাজ্যের বাইরে যাওয়ার পাশাপাশি ফেরার পরিকল্পনাও করেন।
ফলে যাঁরা নির্দিষ্ট দিনে ট্রেনে যাত্রা করতে চান, তাঁদের টিকিট বুকিংয়ের তারিখ আগে থেকেই জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। শেষ মুহূর্তে বুকিং করতে গেলে পছন্দের ট্রেনে আসন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
### বদলেছে অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের নিয়ম
আগে ভারতীয় রেলের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ যাত্রীরা যাত্রার প্রায় চার মাস আগে ট্রেনের সংরক্ষিত টিকিট বুক করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে এই সময়সীমা কমিয়ে দুই মাস করা হয়েছে।
এর ফলে পুজোর সময় যাঁরা ট্রেনে ভ্রমণ করবেন, তাঁদের যাত্রার তারিখ অনুযায়ী দুই মাস আগে বুকিং করতে হবে। অর্থাৎ চার মাস আগে থেকে টিকিট বুক করার পুরনো নিয়মের পরিবর্তে এখন অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যে বুকিংয়ের সুযোগ মিলবে।
এই পরিবর্তনের কারণে পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও আগে থেকে করে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বা ব্যস্ত রুটের ট্রেনগুলিতে আসন দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
### ১৪ অক্টোবরের যাত্রার টিকিট কবে কাটবেন?
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর অর্থাৎ চতুর্থীর দিন যাঁরা যাত্রা করতে চান, তাঁদের জন্য টিকিট বুকিং শুরু হবে ১৫ অগস্ট সকাল ৮টা থেকে।
অর্থাৎ চতুর্থীর দিন কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রীদের ১৫ অগস্ট থেকেই বুকিংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পুজোর মরশুমে ট্রেনের চাহিদা বেশি থাকায় বুকিং খোলার পর যত দ্রুত সম্ভব টিকিট কেটে নেওয়া নিরাপদ হতে পারে।
বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে একসঙ্গে একাধিক আসন প্রয়োজন হয়। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলে একই কোচে বা পছন্দের ট্রেনে আসন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
### ১৫ অক্টোবরের যাত্রার ক্ষেত্রে কী নিয়ম?
১৫ অক্টোবর, অর্থাৎ পঞ্চমীর দিন যাঁরা ট্রেনে যাত্রা করতে চান, তাঁদের জন্য বুকিং শুরু হবে ১৬ অগস্ট সকাল ৮টা থেকে।
দুই মাসের অগ্রিম বুকিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট যাত্রার তারিখের ৬০ দিন আগে টিকিট কাটার সুযোগ মিলবে। ফলে পুজোর গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলিতে যাঁদের ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁরা যেন বুকিংয়ের তারিখ ভুলে না যান।
অনেক সময় টিকিট বুকিংয়ের সময় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জনপ্রিয় ট্রেনের ওয়েটিং লিস্ট তৈরি হয়ে যায়। তাই যাত্রার পরিকল্পনা নিশ্চিত থাকলে বুকিংয়ের প্রথম দিনেই চেষ্টা করা সুবিধাজনক হতে পারে।
### দশমীর দিন যাত্রার পরিকল্পনা থাকলে?
পুজোর শেষ দিন অর্থাৎ দশমীতেও অনেকে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আবার কেউ কেউ পুজোর ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য দশমী বা তার পরের দিন ট্রেন বেছে নেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২১ অক্টোবর দশমীর দিন যাঁদের যাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁরা ২২ অগস্ট থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন।
অর্থাৎ পুজোর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিনের জন্য আলাদা করে বুকিংয়ের তারিখ মনে রাখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যাত্রীরা চাইলে আগে থেকেই একটি তালিকা তৈরি করে রাখতে পারেন।
### পুজোয় বাড়তি ট্রেন চালাবে পূর্ব রেল
শুধু নিয়মিত ট্রেনের উপর নির্ভর করেই যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলানো হবে না। পুজোর সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন বলে পূর্ব রেলের তরফে স্পেশ্যাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, এ বছরও পুজোর সময় স্পেশ্যাল ট্রেন চালানো হবে। ফলে নিয়মিত ট্রেনে টিকিট না পাওয়া যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। ([Bangla Hunt][1])
তবে স্পেশ্যাল ট্রেনের সম্পূর্ণ তালিকা, রুট, সময়সূচি এবং বুকিং সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রেলের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে। তাই যাত্রীদের নিয়মিত রেলের অফিসিয়াল আপডেটের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
### কেন পুজোয় ট্রেনের টিকিটের চাহিদা এত বেশি?
দুর্গাপুজো বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব। এই সময় বহু মানুষ পরিবারের সঙ্গে কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে যান। কলকাতার পাশাপাশি দার্জিলিং, সিকিম, উত্তরবঙ্গ, পুরী, দিল্লি, মুম্বই, রাজস্থান এবং দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
একই সঙ্গে অন্য রাজ্যে থাকা বহু মানুষ পুজোর সময় বাংলায় বাড়ি ফেরেন। ফলে যাওয়া এবং ফেরার—দুই দিকেই ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যায়।
এই বাড়তি চাপের কারণেই পুজোর সময় জনপ্রিয় রুটগুলিতে সংরক্ষিত আসনের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
### শেষ মুহূর্তে বুকিং করলে সমস্যা হতে পারে
পুজোর সময় ট্রেনের টিকিট নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল শেষ মুহূর্তের ভিড়। কোনও নির্দিষ্ট রুটে একসঙ্গে বহু মানুষ টিকিট কাটার চেষ্টা করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিশ্চিত আসন শেষ হয়ে যেতে পারে।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ একসঙ্গে একাধিক আসন প্রয়োজন হয়। অনেক সময় ট্রেনে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন আসন পাওয়া গেলেও একই কোচে জায়গা পাওয়া যায় না।
তাই পুজোর ভ্রমণের পরিকল্পনা নিশ্চিত থাকলে বুকিংয়ের নির্দিষ্ট তারিখ আগে থেকেই নোট করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
### যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
পুজোর সময় ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, যাত্রার তারিখ নিশ্চিত করে অগ্রিম বুকিংয়ের দিনটি মনে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, পছন্দের ট্রেনে আসন না পাওয়া গেলে বিকল্প ট্রেনের কথাও মাথায় রাখা উচিত।
এছাড়া স্পেশ্যাল ট্রেন চালু হলে তার রুট ও সময়সূচিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত ট্রেনের তুলনায় স্পেশ্যাল ট্রেন অতিরিক্ত বিকল্প তৈরি করে দেয়।
যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি, স্টপেজ এবং বুকিংয়ের অবস্থা যাচাই করাও জরুরি। কোনও পরিবর্তন হলে শেষ মুহূর্তে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য রেলের আপডেট নজরে রাখা দরকার।
সব মিলিয়ে, পুজোর ছুটিতে ট্রেনে বেড়ানোর পরিকল্পনা করা যাত্রীদের জন্য এবারের বুকিং সংক্রান্ত নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার মাসের পরিবর্তে দুই মাস আগে সংরক্ষিত টিকিট বুকিংয়ের নিয়ম থাকায় যাত্রার তারিখ অনুযায়ী সঠিক সময়ে বুকিং করা প্রয়োজন। ১৪ অক্টোবরের যাত্রার জন্য ১৫ অগস্ট এবং ১৫ অক্টোবরের যাত্রার জন্য ১৬ অগস্ট থেকে বুকিং শুরু হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। একইভাবে দশমীর দিন অর্থাৎ ২১ অক্টোবর যাত্রার জন্য ২২ অগস্ট থেকে টিকিট বুকিংয়ের সুযোগ থাকবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুজোর ভিড় সামলাতে পূর্ব রেল স্পেশ্যাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও করেছে। ফলে যাঁরা এবার পুজোর ছুটিতে ট্রেনে বেড়াতে চান, তাঁদের এখন থেকেই যাত্রার দিন ঠিক করে বুকিংয়ের তারিখ ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত করে রাখা ভালো।


