গুয়াহাটিতে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শহরের বেলতলা-বশিষ্ঠপুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সি এক তরুণীর খণ্ডিত দেহ উদ্ধার হয়েছে। আরও ভয়াবহ বিষয় হল, ওই মহিলার কাটা মাথা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়ে ফ্রিজের ভিতরে রাখা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে থাকায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মৃতার নাম **রিয়া তালুকদার গোস্বামী**। তিনি একটি বুটিকে কাজ করতেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। তাঁর স্বামী রামানুজন গোস্বামী পেশায় ক্যাবচালক। ঘটনার পর তিনিই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে।
## ফ্রিজের ভিতর কাটা মাথা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বাড়িতে ঢুকে তদন্তকারীরা মেঝেতে তরুণীর দেহ দেখতে পান। দেহটির মাথা ছিল না। এরপর বাড়ির ফ্রিজ খুলতেই ভিতর থেকে প্লাস্টিকে মোড়া মাথাটি উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের আরও দাবি, মৃতার হাতের কয়েকটি আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল।
ঘটনার ভয়াবহতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে সেই বিবাদের কারণেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
## প্রতিবেশীদের ফোনেই পুলিশের হানা
রবিবার বাড়ি থেকে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির দরজা খুলে ভিতরে ঢোকে। সেখানেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান তদন্তকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দেহ উদ্ধারের অন্তত এক থেকে দুই দিন আগে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। দেহে পচন ধরতে শুরু করেছিল বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হত্যার সময় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
## আত্মসমর্পণ করলেন স্বামী
ঘটনার পর থেকেই মৃতার স্বামী রামানুজন গোস্বামীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেরায় তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেই দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশও হত্যার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম খতিয়ে দেখছে।
## মাত্র কয়েক মাস আগেই বিয়ে?
রিয়া ও রামানুজনের বিয়ে খুব বেশিদিন আগে হয়নি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁদের বিয়ের সময়কাল ছিল প্রায় ছয় মাস। দু’জনেই ওই বাড়িতে থাকতেন।
তবে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের সমস্যা চলছিল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পুলিশ পরিবারের সদস্য এবং পরিচিতদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
## তদন্তে ফরেন্সিক দল
ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা বাড়িটি পরীক্ষা করছেন। উদ্ধার হওয়া দেহ ও অন্যান্য নমুনা ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র, ঘটনার সময় এবং দেহ লুকানোর পদ্ধতি নিয়েও তদন্ত চলছে।
পুলিশের সামনে এখন মূলত কয়েকটি প্রশ্ন—ঠিক কখন রিয়াকে হত্যা করা হয়েছিল, কীভাবে তাঁর দেহ খণ্ডিত করা হল, কেন মাথাটি ফ্রিজে রাখা হয়েছিল এবং হত্যার পিছনে আসল কারণ কী। স্বামীর বক্তব্য ও ফরেন্সিক রিপোর্টের সঙ্গে অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে গোটা ঘটনার ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
## ভয়াবহ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন গার্হস্থ্য হিংসা নিয়ে
এই ঘটনা ফের দাম্পত্য সম্পর্কে সহিংসতা এবং পারিবারিক বিবাদের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও রিয়া ও তাঁর স্বামীর মধ্যে আগে থেকে কোনও গুরুতর বিবাদ বা নির্যাতনের অভিযোগ ছিল কি না, তা এখনও তদন্তে স্পষ্ট হয়নি।
তাই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ধরে নেওয়ার বদলে পুলিশের তদন্তের ফলের দিকে তাকানোই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত স্বামী গ্রেপ্তার হলেও আদালতে বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত তাঁর দায় নির্ধারিত হবে।
গুয়াহাটির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ফ্রিজের ভিতর থেকে তরুণীর কাটা মাথা উদ্ধার এবং স্বামীর আত্মসমর্পণের ঘটনায় তদন্ত আরও গভীর হয়েছে। এখন পুলিশের নজর ময়নাতদন্ত, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের দিকে।


