শিয়ালদহ-রানাঘাট শাখার নিত্যযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল **পূর্ব রেল**। যাত্রীদের চাহিদা এবং পরীক্ষামূলক স্টপেজের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে **১ আগস্ট থেকে শিয়ালদহ-রানাঘাট এসি লোকাল ট্রেনের স্টপেজ তালিকায় বড় পরিবর্তন** আনা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কয়েকটি স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে স্টপেজ চালু থাকলেও দুটি স্টেশনে ট্রেন আর থামবে না। রেলের দাবি, যাত্রীসংখ্যা এবং বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত **১৫ জুন** থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শিয়ালদহ-রানাঘাট এসি লোকালের অতিরিক্ত পাঁচটি স্টেশনে স্টপেজ চালু করা হয়েছিল। সেই স্টেশনগুলি ছিল **শিমুরালি, হালিশহর, কাঁকিনাড়া, জগদ্দল এবং ইছাপুর**। প্রথমে জানানো হয়েছিল যে এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা **৩১ জুলাই** পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর ওই সময়ে প্রতিটি স্টেশনে কতজন যাত্রী ওঠানামা করেছেন, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
সেই মূল্যায়নের পর পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে **১ আগস্ট থেকে জগদ্দল এবং কাঁকিনাড়া স্টেশনে আর আপ ও ডাউন শিয়ালদহ-রানাঘাট এসি লোকাল থামবে না।** কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, এই দুই স্টেশনে প্রত্যাশিত সংখ্যক যাত্রী পাওয়া যায়নি। ফলে পরিষেবার গতি ও কার্যকারিতা বজায় রাখতেই এই স্টপেজ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, **শিমুরালি, হালিশহর এবং ইছাপুর** স্টেশনে পরীক্ষামূলক স্টপেজ আপাতত বহাল রাখা হয়েছে। রেল জানিয়েছে, **৩১ আগস্ট পর্যন্ত** এই তিনটি স্টেশনে ট্রেন থামবে। এই সময়ের মধ্যেও যাত্রীসংখ্যা, টিকিট বিক্রি এবং যাতায়াতের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে স্টপেজ রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পূর্ব রেলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) জানিয়েছেন, কোনও স্টেশনে ট্রেন থামানো বা স্টপেজ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র যাত্রীদের প্রকৃত ব্যবহার এবং পরিষেবার দক্ষতার উপর নির্ভর করে নেওয়া হয়। কম যাত্রী থাকা স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন থামলে যাত্রাসময় বেড়ে যায় এবং অন্য যাত্রীদেরও অসুবিধা হয়। তাই তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিয়ালদহ-রানাঘাট এসি লোকাল পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় উপনগরীয় এসি ট্রেন। আধুনিক ১২ কোচের এই সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনটি প্রতিদিন বহু অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ যাত্রী ব্যবহার করেন। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের জন্য এই পরিষেবা দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষামূলক স্টপেজ চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল কোন কোন স্টেশনে যাত্রীদের চাহিদা বেশি, তা বাস্তবে যাচাই করা। এই ধরনের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ট্রেন পরিচালনাকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করবে। যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় স্টপেজ কমানোর মাধ্যমে সময়ও বাঁচানো সম্ভব হবে।
নিত্যযাত্রীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, যেসব স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা কম, সেখানে অযথা ট্রেন থামার প্রয়োজন নেই। আবার অন্যদিকে, যেসব এলাকায় যাত্রীদের চাহিদা বেশি, সেখানে স্টপেজ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়াবে।
পূর্ব রেল জানিয়েছে, আগামী দিনেও যাত্রীদের মতামত এবং যাতায়াতের পরিসংখ্যান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও নতুন স্টপেজ যোগ করা বা বিদ্যমান স্টপেজে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এর মূল লক্ষ্য হল যাত্রী পরিষেবাকে আরও উন্নত, দ্রুত এবং বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা।
সব মিলিয়ে, **১ আগস্ট থেকে শিয়ালদহ-রানাঘাট এসি লোকালের নতুন স্টপেজ ব্যবস্থা** নিত্যযাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। জগদ্দল ও কাঁকিনাড়ায় স্টপেজ তুলে দেওয়া হলেও শিমুরালি, হালিশহর এবং ইছাপুরে আপাতত ট্রেন থামবে। আগামী এক মাসের যাত্রী পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতের স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


