পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব ক্রমশ আরও তীব্র হচ্ছে। দলের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয় প্রতীক নিয়ে যখন দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চরমে, তখন এবার নতুন করে শিরোনামে উঠে এসেছে **তৃণমূল ভবন**। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির দাবি করেছে, তারা তৃণমূল ভবনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং সেখান থেকেই ভবিষ্যতের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সূত্রের খবর, ঋতব্রত শিবিরের একাধিক নেতা ও সমর্থক তৃণমূল ভবনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাঁরা দাবি করেন, দলকে নতুনভাবে সংগঠিত করা হবে এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু হবে। যদিও এই দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। উভয় পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে এবং সেই বিরোধ এখন নির্বাচন কমিশনের কাছেও পৌঁছেছে।
ঋতব্রত শিবিরের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর বহু নেতা-কর্মী তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাই সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিচালনার দায়িত্বও তাঁদের হাতেই থাকা উচিত। এই অবস্থান থেকেই তৃণমূল ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত নেতৃত্ব এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্রোহী শিবির দলীয় নাম, প্রতীক ও সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে। কারণ দুই পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষের কাছে দাবি ও পাল্টা দাবির নথি জমা দিতে বলেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দলীয় প্রতীক, সাংগঠনিক স্বীকৃতি এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল ভবনকে ঘিরে এই প্রতীকী লড়াই শুধু একটি দফতরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নয়, বরং দলের নেতৃত্বের বৈধতা প্রতিষ্ঠারও বড় বার্তা বহন করছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ভবনই দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এদিকে ঋতব্রত শিবির তাদের ঘোষণায় জানিয়েছে, আগামী দিনে জেলা স্তরে সাংগঠনিক বৈঠক, নতুন কমিটি গঠন এবং কর্মসূচির রূপরেখা প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে দলের কর্মীদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল ভবনকে কেন্দ্র করে নতুন এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে কে প্রকৃতপক্ষে দলীয় সংগঠনের বৈধ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইনি ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার উপর। ততদিন পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব যে আরও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।


