ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে নিজেকে ক্রমশ প্রতিষ্ঠিত করছেন অভিষেক শর্মা। ব্যাট হাতে তাঁর বিধ্বংসী পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। এবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে আরও একটি ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ে ফেললেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এক দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি ভেঙে দিলেন ভারতের প্রাক্তন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের বহুদিনের একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। এই সাফল্যের পর ভারতীয় ক্রিকেটে অভিষেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিশেষজ্ঞরাও।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচেই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় অভিষেক শর্মাকে। ভারতের প্রথম দিকে দ্রুত উইকেট পড়ে গেলেও তিনি নিজের স্বাভাবিক খেলায় অটল থাকেন। মাত্র ২৪ বলে ৫৯ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও বিশাল ছক্কার ঝড়, যা ভারতের স্কোরকে শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছে দেয়।
এই ইনিংসের মধ্যেই অভিষেক এমন একটি রেকর্ড গড়েন, যা এতদিন যুবরাজ সিংয়ের নামে ছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে টি-২০ ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতরান করেন তিনি। মাত্র ২০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে যুবরাজের পুরনো নজিরকে পিছনে ফেলে দেন। যদিও ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-২০ অর্ধশতরানের রেকর্ড এখনও যুবরাজ সিংয়েরই দখলে, যিনি ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে মাত্র ১২ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন। তবে অভিষেকের এই ইনিংস প্রমাণ করে দিয়েছে, তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী বড় ম্যাচ উইনার হওয়ার সমস্ত যোগ্যতা রাখেন।
শুধু দ্রুততম অর্ধশতরানই নয়, এই ম্যাচে অভিষেক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেন। তিনি পূর্ণ সদস্য দেশগুলির ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি ছক্কা মারার নজির গড়েন। এই রেকর্ড তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিং ক্ষমতারই প্রমাণ। মাত্র ৭৮৫ বল খেলেই তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন, যা আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
ভারতের ইনিংসে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন। পাশাপাশি শিভম দুবেও শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে দলকে ১৮৯/৭-এর লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দেন। শুরুতে দুই উইকেট দ্রুত হারালেও অভিষেক ও শ্রেয়সের জুটি ভারতের ইনিংসকে ঘুরিয়ে দেয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের ইনিংস শেষ হওয়ার পর প্রবল বৃষ্টির কারণে ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের সুযোগই পায়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ফলে অভিষেকের দুর্দান্ত ইনিংসের উপর জয়ের ছাপ পড়েনি, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত রেকর্ড এবং ব্যাটিং প্রদর্শনই ম্যাচের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
গত কয়েক মাস ধরেই ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন অভিষেক শর্মা। আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, পাওয়ারপ্লেতে আধিপত্য এবং বড় শট খেলার ক্ষমতা ভারতীয় দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে। প্রতিপক্ষ বোলারদের উপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করার দক্ষতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের টি-২০ দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অভিষেক শর্মা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত গতি বাড়ানোর ক্ষমতা ভারতকে বড় টুর্নামেন্টে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। যুবরাজ সিংয়ের মতো একজন কিংবদন্তির রেকর্ড ভাঙা শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনারও ইঙ্গিত বহন করে।
আগামী ম্যাচগুলিতেও যদি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে খুব শীঘ্রই অভিষেক শর্মা ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় ম্যাচ উইনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তাঁর ব্যাট থেকে আরও অনেক রেকর্ড আসবে বলেই প্রত্যাশা সমর্থকদের।


