জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি এবার দেশের জাতীয় গান **‘বন্দে মাতরম’**-এর মর্যাদা ও পরিবেশনের ক্ষেত্রেও আরও কড়া আইনি সুরক্ষা কার্যকর হল। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু **Prevention of Insults to National Honour (Amendment) Bill, 2026**-এ সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলে বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ায় বাধা দেওয়া, গান চলাকালীন কোনও সভা বা অনুষ্ঠানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এর আগে **Prevention of Insults to National Honour Act, 1971**-এর আওতায় মূলত জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-কে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সংগীত গাওয়া বন্ধ করে দিলে বা জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় কোনও অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। এবার সংশোধিত আইনের মাধ্যমে সেই সুরক্ষার আওতায় ‘বন্দে মাতরম’-কেও অন্তর্ভুক্ত করা হল।
### রাষ্ট্রপতির সম্মতির পরই কার্যকর নতুন আইন
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির সঙ্গে সঙ্গেই সংশোধিত আইনটি কার্যকর হয়েছে। সংসদের দুই কক্ষেই ইতিমধ্যে বিলটি পাশ হয়েছিল। **৩০ জুলাই লোকসভায়** বিলটি পাশ হয় এবং তার এক দিন আগে, অর্থাৎ **২৯ জুলাই রাজ্যসভায়** সেটি অনুমোদিত হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতির অপেক্ষা ছিল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে।
নতুন আইনকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ‘বন্দে মাতরম’কে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জাতীয় গান হিসেবে সম্মান দেওয়া হলেও, জাতীয় সংগীতের মতো একই ধরনের নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা এতদিন ছিল না।
সংশোধনের মাধ্যমে সেই আইনি ব্যবধান অনেকটাই দূর করা হল।
### ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্য কী বদলাল?
নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় বাধা দিলে অথবা সেই গান পরিবেশনের সময় কোনও সভায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন ঘটালে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থাৎ কোনও অনুষ্ঠান, সরকারি কর্মসূচি বা অন্য কোনও সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় পরিকল্পিতভাবে গান বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
সরকারের যুক্তি, জাতীয় গান হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’-এর যে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি সুরক্ষাও প্রয়োজন ছিল। এতদিন সেই নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষার অভাব ছিল।
### কী শাস্তি হতে পারে?
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন আইনের বিধান জাতীয় সংগীত সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। আগের আইনে জাতীয় সংগীতের গানে ইচ্ছাকৃত বাধা বা বিঘ্নের ক্ষেত্রে **সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা দু’টিই** হতে পারত। দ্বিতীয় এবং পরবর্তী দোষসিদ্ধির ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানও ছিল।
তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় ঠিক কী শাস্তি হবে, তা নির্ভর করবে অভিযোগের ধরন, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার উপর।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন—নতুন আইন মূলত **ইচ্ছাকৃতভাবে গান গাওয়ায় বাধা দেওয়া বা পরিবেশনে বিঘ্ন ঘটানোর মতো আচরণকে** অপরাধের আওতায় আনছে। শুধু গানটি না গাওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের গান গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া—এই দুই বিষয়কে একইভাবে দেখা যায় না।
### কেন এই সংশোধনের প্রয়োজন হল?
সরকারের পক্ষ থেকে বিলটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল, ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় গান হিসেবে সম্মানিত হলেও তার পরিবেশনে ইচ্ছাকৃত বাধা বা অপমান রুখতে নির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা ছিল না।
সেই কারণেই **Prevention of Insults to National Honour Act-এর Section 3** সংশোধন করে জাতীয় গানকেও এর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সেই সংশোধন এখন আইনে পরিণত হয়েছে।
এর ফলে জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় গান—দুই ক্ষেত্রেই ইচ্ছাকৃত বিঘ্ন ঘটানোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কাঠামো তৈরি হল।
### জাতীয় গান ও জাতীয় সংগীতের মর্যাদা কি একই?
‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’—দুটিরই জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে তাদের ভূমিকা ও সাংবিধানিক অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
‘জন গণ মন’ ভারতের **National Anthem**, অর্থাৎ জাতীয় সংগীত। অন্যদিকে ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের **National Song**, অর্থাৎ জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত।
নতুন সংশোধনের ফলে ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংগীতের সঙ্গে হুবহু একই সাংবিধানিক পরিচয় পাচ্ছে—এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং গানটির পরিবেশনে ইচ্ছাকৃত বাধা বা বিঘ্নের বিরুদ্ধে একই ধরনের **আইনি সুরক্ষা** দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, সংশোধিত আইন ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীতের মতো আইনি সুরক্ষার আওতায় এনেছে।
### স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ভূমিকা
‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই গান উনিশ শতকের শেষভাগ থেকেই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠে।
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম’ মানুষের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও দেশাত্মবোধ জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
স্বাধীনতার আগে এবং পরে এই গানকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক থাকলেও জাতীয় গান হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
### নতুন আইনের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসও গুরুত্বপূর্ণ
রাষ্ট্রপতির সম্মতির খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশ স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বছর **প্রথমবার স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে** বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে।
ফলে নতুন আইন এবং স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি—দুটি বিষয় একই সময়ে সামনে আসায় ‘বন্দে মাতরম’-কে ঘিরে জাতীয় স্তরে আলোচনা আরও বেড়েছে।
লালকেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থান থেকে জাতীয় গান পরিবেশনের সিদ্ধান্তও এই বছরের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
### ছয়টি স্তবক নিয়েও নতুন নির্দেশিকা
শুধু আইনি সুরক্ষা নয়, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল জারি করা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দেয়, নির্দিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর **ছয়টি স্তবক** পরিবেশন করা হবে। এই ছয়টি স্তবকের মোট সময় প্রায় **৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড** বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের বক্তৃতার মতো নির্দিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গান পরিবেশনের ক্ষেত্রে এই প্রোটোকলের কথা বলা হয়েছে।
### জাতীয় গান ও জাতীয় সংগীত একসঙ্গে হলে কী হবে?
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কোনও অনুষ্ঠানে জাতীয় গান এবং জাতীয় সংগীত দুটিই পরিবেশন বা বাজানো হলে **প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’** পরিবেশন করা হবে। এরপর জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশন করা হবে।
এই নির্দেশিকা ‘বন্দে মাতরম’-কে সরকারি অনুষ্ঠানে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
### স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কী প্রভাব?
নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এর প্রভাব স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে পড়বে কি না।
এখানে আইনের নির্দিষ্ট ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। আইনটি মূলত **ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গানে বাধা দেওয়া বা পরিবেশনে বিঘ্ন সৃষ্টি করার আচরণকে** লক্ষ্য করছে।
অতএব কোনও শিক্ষার্থী গান না গাইলেই তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এমন ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। কোনও ঘটনায় আইনের প্রয়োগ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি এবং অভিযোগের প্রকৃতির উপর।
### মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও আলোচনা
নতুন আইন ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠতে পারে—জাতীয় প্রতীক ও দেশাত্মবোধের প্রতি সম্মান এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে?
গণতান্ত্রিক দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। একইসঙ্গে জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু আচরণের বিরুদ্ধে আইনও রয়েছে।
তাই নতুন আইনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে, সেটি কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হয় এবং ‘ইচ্ছাকৃত বাধা’ বা ‘বিঘ্ন’-এর ব্যাখ্যা কীভাবে করা হয়।
### আইনের প্রয়োগে প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ
কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না। আইন অনুযায়ী অভিযোগের তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
বিশেষ করে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ কোনও কাজ করা হয়েছিল কি না, তা প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তাই কোনও অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনও ব্যক্তি কোনও কারণে গান গাইতে না পারা এবং পরিকল্পিতভাবে গান বন্ধ করে দেওয়া—এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে আইনি পার্থক্য থাকতে পারে।
### সরকারের বক্তব্য কী?
সরকারের মূল যুক্তি হল, জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা রক্ষা করতে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো প্রয়োজন।
পুরনো আইনে জাতীয় সংগীতের ক্ষেত্রে যে সুরক্ষা ছিল, সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় গানকেও সেই কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর এখন আর এটি শুধুমাত্র সংসদে পাশ হওয়া একটি বিল নয়; এটি কার্যকর আইনে পরিণত হয়েছে।
### সংসদে বিল পাশের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন
আইন তৈরির সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদের দুই কক্ষে বিল পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এই ক্ষেত্রে রাজ্যসভা প্রথমে বিলটি অনুমোদন করে। এরপর লোকসভাতেও বিলটি পাশ হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সংশোধিত আইন কার্যকর হয়েছে।
ফলে ‘বন্দে মাতরম’-এর আইনি মর্যাদা সংক্রান্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পূর্ণ হয়েছে।
### রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মত রয়েছে। গানটির ইতিহাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা, স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা এবং সরকারি অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নতুন আইন কার্যকর হওয়ার ফলে সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে আসতে পারে।
বিশেষত আইনটি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, কোন ধরনের আচরণকে ‘ইচ্ছাকৃত বিঘ্ন’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানে এর প্রয়োগ কতটা বিস্তৃত হবে—এসব বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
### ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কেন্দ্রের বড় পরিকল্পনা
নতুন আইনের পাশাপাশি সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’কে আরও গুরুত্ব দেওয়ার যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, সেগুলিও উল্লেখযোগ্য।
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে গানটির পরিবেশন এবং সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য ছয়টি স্তবক নির্ধারণ—দুটিই জাতীয় গানের সরকারি ব্যবহারে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এর ফলে আগামী দিনে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।
### শেষ কথা
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর **Prevention of Insults to National Honour (Amendment) Bill, 2026** এখন আইনে পরিণত হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় ইচ্ছাকৃত বাধা দেওয়া বা গান পরিবেশনের সময় কোনও সমাবেশে ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে।
আগে একই ধরনের নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা মূলত জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। সংশোধনের ফলে জাতীয় গানও এখন সেই আইনি কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পুরনো আইনে জাতীয় সংগীত সংক্রান্ত অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা দু’টিই হতে পারত; পরবর্তী দোষসিদ্ধির ক্ষেত্রেও পৃথক বিধান ছিল। নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা কার্যকর হয়েছে।
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরকারি অনুষ্ঠানে গানটির পরিবেশন নিয়ে প্রোটোকলও নির্ধারণ করেছে। ছয়টি স্তবক পরিবেশন এবং জাতীয় সংগীতের সঙ্গে দু’টি গান থাকলে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘বন্দে মাতরম’কে ঘিরে কেন্দ্রের নীতি ও আইনি অবস্থানে বড় পরিবর্তন এল। তবে নতুন আইন বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ হয় এবং ইচ্ছাকৃত বাধা বা বিঘ্নের সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা আগামী দিনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


