Tuesday, August 25, 2026

Creating liberating content

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন...

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল।...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক,...

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয়...

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে...

ক্রীড়া দিবসে তরুণদের সঙ্গে...

জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে সামনে রেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং উঠতি ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি...
Homeবাংলাবন্দে মাতরম বিতর্কে...

বন্দে মাতরম বিতর্কে সরব রামদেব, সমালোচকদের কড়া জবাব

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক এবার আরও তীব্র হয়ে উঠল। জাতীয় গানের সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করলেন যোগগুরু রামদেব। তাঁর দাবি, যাঁরা ‘বন্দে মাতরম’-এর সাংস্কৃতিক এবং ভাষাগত তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতীয় সংস্কৃতি ও সংস্কৃত ভাষার যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না। রবিবার হরিয়ানার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রামদেব বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-কে কোনও নির্দিষ্ট হিন্দু দেব-দেবীর আরাধনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, এই গানের কেন্দ্রে রয়েছে মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ভাবনা। 

বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম’কে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে গানটির কোন অংশ কোথায় এবং কীভাবে গাওয়া হবে, সেই প্রশ্ন। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়া হবে। কংগ্রেসের বক্তব্য, ১৯৩৭ সালে কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সেই সময়ের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকেই বর্তমান সময়ে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে কংগ্রেসের দাবি। 

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে। এই আবহেই রামদেবের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কে মাত্রা যোগ করেছে।

## ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রামদেবের বক্তব্য

রামদেবের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর সাংস্কৃতিক অর্থ। তিনি মনে করেন, এই গানের মধ্যে মাতৃভূমিকে শ্রদ্ধা জানানোর যে ভাবনা রয়েছে, সেটিকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনেকেই সংস্কৃত ভাষার যথেষ্ট জ্ঞান না থাকার কারণে গানের বিষয়বস্তুকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেন। রামদেবের দাবি, ‘ভারত মাতা’ ভারতীয় সংস্কৃতিতে একটি পবিত্র ও ঐশ্বরিক ধারণা। তাই মাতৃভূমিকে শ্রদ্ধা জানানোর সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট দেবীর পূজাকে এক করে দেখা ঠিক নয়। 

এই মন্তব্যের মাধ্যমেই তিনি মূলত ‘বন্দে মাতরম’-এর ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

## কেন নতুন করে বিতর্ক?

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গানটির ইতিহাসের সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার নানা অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে।

১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক রচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে গানটি তাঁর উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এর অংশ হিসেবে আরও বিস্তৃত হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম’ ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্লোগানে পরিণত হয়েছিল। 

পরবর্তী সময়ে গানের কিছু স্তবকে দেবদেবীর উল্লেখ এবং ধর্মীয় চিত্রকল্প নিয়ে আপত্তি ওঠে। সেই কারণেই ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি জাতীয় সমাবেশে প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। 

## ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান বিতর্কে বারবার ১৯৩৭ সালের প্রসঙ্গ উঠে আসছে। সেই সময়ে কংগ্রেসের মধ্যে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, জাতীয় সমাবেশে গানটির প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়া হবে। 

কংগ্রেসের বর্তমান বক্তব্যও সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দলের দাবি, ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত কোনও নতুন বিষয় নয় এবং বর্তমানেও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের দাবি, ঐতিহ্যের কথা বলে কংগ্রেস আসলে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আড়াল করছে।

ফলে একটি ঐতিহাসিক গানকে কেন্দ্র করে ফের জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র মতবিরোধ।

## গানটির ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

‘বন্দে মাতরম’-এর বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল ধর্মীয় ব্যাখ্যা। গানের পরবর্তী স্তবকগুলিতে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য ধর্মীয় চিত্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। এই কারণেই বিভিন্ন সময়ে কিছু মুসলিম সংগঠন ও নেতা গানটির সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। 

তবে প্রথম দুটি স্তবকে মাতৃভূমির প্রশংসা এবং দেশপ্রেমের ভাবনাই বেশি স্পষ্ট। এই দুই স্তবককে কেন্দ্র করেই জাতীয় পর্যায়ে গানটির গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল।

রামদেবও মূলত এই জায়গাটিকেই সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, মাতৃভূমির বন্দনা কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় দেবতার উপাসনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।

## কংগ্রেসের অবস্থান কী?

কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়া হবে। দলটি ১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে জানিয়েছে, সেই সময় মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

তাই বর্তমান সিদ্ধান্তকে কংগ্রেস কোনও নতুন রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছে না। বরং তাদের দাবি, এটি ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রথার ধারাবাহিকতা।

কিন্তু বিরোধীরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তের আলাদা রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

## বিজেপির পালটা আক্রমণ

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে বিজেপি ইতিমধ্যেই আক্রমণ করেছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস ঐতিহ্যের কথা বললেও আসলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চাপে অবস্থান বদলাচ্ছে। 

এই পালটা আক্রমণের মধ্যেই রামদেবের মন্তব্য সামনে এসেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু গানটির ইতিহাস বা সংস্কৃতির আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

## স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’

‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝতে গেলে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে ফিরে তাকাতে হয়।

বিশ শতকের গোড়ায় বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এই শব্দবন্ধ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম এবং প্রতিবাদের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল। 

পরবর্তী সময়ে গানটি শুধু বাংলায় নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয়তাবাদী আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

এই ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণেই স্বাধীনতার পরেও গানটির মর্যাদা বজায় থাকে।

## জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি

১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদ ‘জন গণ মন’-কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করে এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়া হয়। 

ফলে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক পরিসরে ‘বন্দে মাতরম’-এর একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা তৈরি হয়।

জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গান—দুটি আলাদা মর্যাদার বিষয় হলেও দুটির সঙ্গেই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতীয় পরিচয়ের ইতিহাস জড়িত।

## গানটির প্রথম দুই স্তবকের গুরুত্ব

বর্তমান বিতর্কে প্রথম দুই স্তবক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এই অংশেই মাতৃভূমির সৌন্দর্য এবং তার প্রতি শ্রদ্ধার কথা উঠে আসে।

১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের পর জাতীয় পর্যায়ে এই দুই স্তবকই মূলত গ্রহণযোগ্য সংস্করণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। 

তাই কংগ্রেস যখন বর্তমান সময়ে প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছে, তখন তারা সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেদের অবস্থানের যোগসূত্র তৈরি করছে।

## রামদেবের সংস্কৃত প্রসঙ্গ

রামদেব তাঁর বক্তব্যে সংস্কৃত ভাষার প্রসঙ্গও তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, গানটির অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে ভাষাগত জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র কিছু শব্দের আক্ষরিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পুরো গানের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য নির্ধারণ করা উচিত নয়। 

তিনি মনে করেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে মাতৃভূমিকে একটি পবিত্র সত্তা হিসেবে দেখার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই সাংস্কৃতিক ধারণার ভিত্তিতেই ‘বন্দে মাতরম’-কে দেখা উচিত।

তাঁর এই বক্তব্য অবশ্য বিতর্কের অবসান ঘটানোর বদলে রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।

## দেশপ্রেম বনাম ধর্মীয় ব্যাখ্যা

‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কের মূল প্রশ্নগুলির একটি হল—একটি জাতীয় গানের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমের অনুভূতি এবং ধর্মীয় প্রতীকের মধ্যে সীমারেখা কোথায়?

এক পক্ষ মনে করে, গানটির মূল বক্তব্য মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতার চেতনা। অন্য পক্ষের আপত্তি মূলত পরবর্তী স্তবকগুলির ধর্মীয় চিত্রকল্প নিয়ে।

এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের অন্যতম কঠিন জায়গা।

রামদেবের বক্তব্য প্রথম পক্ষের ব্যাখ্যাকেই জোরালো করেছে।

## রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ার সম্ভাবনা

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। কারণ গানটির ইতিহাসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বক্তব্যের লড়াই শুরু হয়েছে।

একদিকে কংগ্রেস ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তকে সামনে আনছে। অন্যদিকে বিজেপি মনে করছে, এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তার মধ্যেই রামদেবের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যে সমালোচকদের আক্রমণ করায় বিষয়টি আরও বেশি মানুষের নজরে এসেছে।

## সামাজিক প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ

জাতীয় প্রতীক বা জাতীয় গানের সঙ্গে মানুষের আবেগ গভীরভাবে যুক্ত। তাই এই ধরনের বিতর্ক শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সাধারণ মানুষের মধ্যেও মতভেদ তৈরি হতে পারে।

কেউ ‘বন্দে মাতরম’-কে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখেন, আবার কেউ গানের কিছু অংশ নিয়ে ধর্মীয় আপত্তি প্রকাশ করেন।

এই দুই ধরনের অনুভূতিকেই বোঝা এবং সম্মান করা গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

## ইতিহাসকে বর্তমান রাজনীতিতে কীভাবে দেখা হবে?

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বর্তমান বিতর্কের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইতিহাসের রাজনৈতিক ব্যবহার। ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, সেই সময়কার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী ছিল এবং স্বাধীনতার পরে গানটির মর্যাদা কীভাবে নির্ধারিত হল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর বুঝলেই বর্তমান বিতর্কের প্রেক্ষাপট পরিষ্কার হয়।

ইতিহাসকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের হাতিয়ার হিসেবে না দেখে তার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট বোঝা প্রয়োজন।

কারণ ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস বহুস্তরীয় এবং তার সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা অধ্যায় যুক্ত।

## দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে গান

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে যথেষ্ট আলোচনা রয়েছে। গানটি একসময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে এতটাই যুক্ত হয়ে গিয়েছিল যে এর উচ্চারণই মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের আবেগ তৈরি করত। 

এই কারণেই গানটির প্রতি বহু ভারতীয়র আবেগ এখনও অত্যন্ত গভীর।

রামদেবের বক্তব্যেও সেই জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক দিকটিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

## সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা

রামদেব সরাসরি বলেছেন, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে তার সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত প্রেক্ষাপট বোঝা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে সমালোচকদের প্রতি যথেষ্ট কড়া ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। 

তিনি মনে করেন, ভারতীয় সংস্কৃতির ধারণাগুলিকে পাশ্চাত্য বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে বিচার করলে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে।

এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

## ‘ভারত মাতা’ ধারণা নিয়ে রামদেবের ব্যাখ্যা

রামদেবের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ‘ভারত মাতা’ ধারণা। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে দেশকে শুধু একটি ভৌগোলিক সীমানা হিসেবে দেখা হয় না; দেশকে একটি পবিত্র ও ঐশ্বরিক সত্তা হিসেবেও কল্পনা করা হয়। 

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সাংস্কৃতিক ধারণাকে কোনও নির্দিষ্ট দেবী বা ধর্মীয় উপাসনার সঙ্গে সরাসরি মিলিয়ে দেখা উচিত নয়।

এভাবেই তিনি ‘বন্দে মাতরম’-এর দেশপ্রেমের ব্যাখ্যাকে সামনে এনেছেন।

## সামনে কী?

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে। কংগ্রেস তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান বজায় রাখার কথা বলেছে। বিজেপি সেই অবস্থানের সমালোচনা করেছে। আর রামদেব সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন।

ফলে বিষয়টি আগামী দিনেও রাজনৈতিক বক্তব্য, সভা এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।

তবে এই বিতর্কের মধ্যে গানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকা যেন আড়ালে না যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

## শেষ কথা

‘বন্দে মাতরম’ ভারতের ইতিহাসে শুধু একটি গান নয়; এটি স্বাধীনতা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেমের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক। ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনার সূত্রে যাত্রা শুরু করে গানটি পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পরিচিত স্লোগানে পরিণত হয়। 

১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্তে জাতীয় সমাবেশে প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পরে ১৯৫০ সালে ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় গানের মর্যাদা পায়।

বর্তমানে কংগ্রেস আবারও প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানোয় পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। বিজেপি সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে রামদেব প্রকাশ্যে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে জানিয়েছেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর সাংস্কৃতিক এবং ভাষাগত প্রেক্ষাপট বোঝা প্রয়োজন। তাঁর মতে, গানটির মাতৃভূমির বন্দনাকে কোনও নির্দিষ্ট হিন্দু দেবতার উপাসনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। 

অন্যদিকে, ইতিহাস বলছে গানটির পরবর্তী স্তবকগুলিতে ধর্মীয় চিত্রকল্প থাকার কারণেই অতীতে আপত্তি উঠেছিল এবং ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তে প্রথম দুই স্তবককে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। 

তাই বর্তমান বিতর্কের সমাধান শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে হবে না। ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস, সাংস্কৃতিক তাৎপর্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংবেদনশীলতার দিকগুলি একসঙ্গে বিবেচনা করেই বিষয়টিকে দেখা প্রয়োজন। তবে আপাতত রামদেবের মন্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতে এই পুরনো গানকে ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আগামী দিনে কংগ্রেস, বিজেপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বক্তব্য এই বিতর্ককে আরও কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, বিশ্বকে কড়া বার্তা আমেরিকার

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল। তেহরানের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে কার্যত সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক, মোদির বার্তা পৌঁছল মস্কোয়

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সোমবার, ২৪ আগস্ট রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এই বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত বার্তাও রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন জয়শঙ্কর।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয় ‘শের’, বদলাবে অস্ত্রভাণ্ডার

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় **AK-203 ‘Sher’ assault rifle**। এই রাইফেলের প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে তৈরি প্রোটোটাইপ সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে ছোট অস্ত্র উৎপাদনে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.