ইরানে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক মূল্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ (UNICEF)। সংস্থার সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে ইরানে **২,৫০০-রও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে**। এর মধ্যে **৩৮৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ২,১১৭ জন আহত হয়েছে** বলে জানানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান গোটা বিশ্বের কাছে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে শিশুরাই। যেসব জায়গা তাদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা—বাড়ি, স্কুল এবং নিজেদের বসবাসের এলাকা—সেখানেই তারা প্রাণ হারাচ্ছে বা গুরুতর আহত হচ্ছে। তাঁর কথায়, শিশুদের এই দুর্ভোগ কখনও স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না এবং সংঘর্ষে জড়িত সব পক্ষের আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা উচিত।
সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থার দাবি, ওই হামলায় মাত্র দুই বছরের এক শিশু এবং তার বাবা-মা নিহত হন। একই ঘটনায় আরও দুই শিশু আহত হয়েছে। এই ঘটনা যুদ্ধক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা কতটা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, তারই আরেকটি উদাহরণ।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইরান নয়, গত পাঁচ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে সংঘাতের কারণে **৪,০০০-এরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে**। এই বিপুল সংখ্যক শিশুহতাহতের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই ইরানের। সংস্থার মতে, অব্যাহত সংঘর্ষ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক বিকাশের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। হাসপাতাল, স্কুল, আবাসিক এলাকা এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থানে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান বহুবার জানানো হলেও বাস্তবে সেই নিয়ম বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এর ফলে নিরীহ শিশুদের প্রাণহানি এবং আহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউনিসেফ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, সব পক্ষকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে শিশুদের জীবন রক্ষা করা যায় এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং মানসিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে ইউনিসেফ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, শিশুদের ওপর তার প্রভাব ততই গভীর হবে। শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, যুদ্ধের মানসিক অভিঘাতও তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। ইউনিসেফও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতা বন্ধ করা এখনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।


