মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা চরমে। কয়েক দিনের বিরতির পর **ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী**। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, মার্কিন সেনা ও স্বার্থের উপর হামলা হলে তার “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় নতুন হামলা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় **ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর** একাধিক সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো, কমান্ড সেন্টার এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা এবং ভবিষ্যতে মার্কিন বাহিনীর উপর হামলার ঝুঁকি কমানো।
এই অভিযানের আগে জর্ডনে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটির দিকে ইরানের দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ। মার্কিন সেনার দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সেই ঘোষণার পর ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।
ইরানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, হামলার ফলে কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে এবং কিছু সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে হতাহতের আশঙ্কার কথাও জানানো হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হামলাগুলি শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুর উপরই পরিচালিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে বিমান হামলা স্থগিত করেছিল, যাতে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া যায়। ইরানও তখন জানিয়েছিল, মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে তারাও নতুন আক্রমণ চালাবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের পর সেই অস্থায়ী বিরতি কার্যত ভেঙে যায় এবং আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই নতুন সংঘাত গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সংঘর্ষ আরও তীব্র হলে তার প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে **হরমুজ প্রণালী** দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, ইরাক, সিরিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা বাড়তে পারে। ফলে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তাঁদের মতে, সামরিক সংঘাত বাড়লে শুধু প্রাণহানি নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উপর জোর দিচ্ছেন বহু বিশ্লেষক।
সব মিলিয়ে, **জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটির উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলা** মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত এই অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।


