Monday, September 14, 2026

Creating liberating content

সনাতনের পতাকা উড়লে ভারত...

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দাবি করলেন, যতদিন ভারতে সনাতন ধর্মের পতাকা উড়বে, ততদিন...

আফগানিস্তান ম্যাচে ইতিহাস, জাতীয়...

ক্রিকেট মাঠে সাধারণত আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরুর আগে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা...

বিবেকানন্দকে ঢাল করে বামেদের...

দুর্গাপুজোর আবহে বাংলার রাজনীতিতে ফের সামনে এলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তবে এবার কোনও ধর্মীয়...

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন...

দেশের প্রশাসন চালানো, নীতি নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি সামলানো এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি—একজন রাষ্ট্রনেতার...
Homeবাংলাদিল্লিতে মোদি-জিনপিং বৈঠক,...

দিল্লিতে মোদি-জিনপিং বৈঠক, সীমান্ত ও বাণিজ্যে জোর

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের পর দুই রাষ্ট্রনেতার এই সাক্ষাৎকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ফেরানো—বৈঠকে এই বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সীমান্তে সেনা মোতায়েন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা LAC-কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং একাধিক কূটনৈতিক মতবিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লির মাটিতে মোদি ও জিনপিংয়ের বৈঠককে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

## সাত বছর পর ভারতের মাটিতে জিনপিং

শি জিনপিংয়ের এই ভারত সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম তিনি ভারতের মাটিতে এলেন। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তাঁর নয়াদিল্লি সফর হলেও, গোটা নজর ছিল মোদি-জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে। দুই নেতার সাক্ষাৎকে ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ গলানোর সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি চিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক আস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভারতের বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় না থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্য ক্ষেত্রগুলিতেও স্থায়ী উন্নতি সম্ভব নয়। তাই সীমান্ত সংক্রান্ত পূর্ববর্তী চুক্তি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

## সীমান্ত সমস্যা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাধা এখনও সীমান্ত সমস্যা। লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেনা প্রত্যাহার ও উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একাধিক আলোচনা হলেও, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সম্পূর্ণ আস্থা এখনও ফেরেনি।

মোদি-জিনপিং বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের নেতৃত্বের বক্তব্যে উঠে এসেছে—মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে যেন সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া না হয়। পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা এবং দুই দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মূল ভিত্তি। সীমান্তে উত্তেজনা থাকলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রগুলিতেও তার প্রভাব পড়ে। তাই সম্পর্ক উন্নতির আগে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে ভারত বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

## বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় জোর

সীমান্ত সমস্যার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। ভারত ও চিনের মধ্যে বিপুল বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। চিন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও, ভারতীয় পণ্যের জন্য চিনের বাজারে পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হচ্ছে না—এমন অভিযোগ বহুদিনের।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা এবং শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। বিশেষ করে উৎপাদন, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। 

চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত হলেও ভারত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সতর্ক থাকতে চাইছে। সংবেদনশীল প্রযুক্তি, টেলিকম, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে চিনা বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

## মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা

বৈঠকে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে ভারত ও চিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে মনে করছে দুই পক্ষ।

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা, ব্যবসায়িক যাতায়াত এবং ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে ভারত-চিনের মানুষের পারস্পরিক যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সেই যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হলে ব্যবসা ও পর্যটনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সম্পর্ক উন্নত হতে পারে।

## মতবিরোধকে সংঘাতে না নেওয়ার বার্তা

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল—দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও তা যেন সংঘাতে পরিণত না হয়। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারত-চিন সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন, সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব উঠে এসেছে। 

অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকেও পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু নেতাদের বৈঠকেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্তে বাস্তব পরিস্থিতি, সেনা মোতায়েন, বাণিজ্য ঘাটতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের মতো বিষয়গুলিতে ধারাবাহিক আলোচনা প্রয়োজন।

## ব্রিকসের মঞ্চে নতুন সমীকরণ

ব্রিকস সম্মেলনের আবহে মোদি-জিনপিং বৈঠক হওয়ায় এর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভারত, চিন, রাশিয়া-সহ একাধিক উদীয়মান অর্থনীতির দেশ এই মঞ্চে একত্রিত হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে বহুমেরু ব্যবস্থার প্রসার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ রক্ষার মতো বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখনও রয়েছে। সীমান্ত বিরোধ, পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মতো বিষয়গুলি দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে। তাই দিল্লির বৈঠককে সম্পর্কের সম্পূর্ণ পরিবর্তন না বলে, সতর্কভাবে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, মোদি-জিনপিং বৈঠক ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। সীমান্তে শান্তি, বাণিজ্যে ভারসাম্য, মানুষের যাতায়াত এবং কৌশলগত সহযোগিতা—এই চারটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে সেই অগ্রগতি কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনা এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উপর।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

সনাতনের পতাকা উড়লে ভারত অক্ষত থাকবে, দাবি যোগীর

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দাবি করলেন, যতদিন ভারতে সনাতন ধর্মের পতাকা উড়বে, ততদিন দেশের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। রবিবার উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সামাজিক ঐক্য এবং...

আফগানিস্তান ম্যাচে ইতিহাস, জাতীয় সংগীতের আগে বাজল বন্দে মাতরম

ক্রিকেট মাঠে সাধারণত আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরুর আগে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। কিন্তু ভারত ও আফগানিস্তানের প্রথম টি-২০ ম্যাচের আগে দেখা গেল একেবারে অন্যরকম দৃশ্য। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারতীয় জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর আগে পরিবেশন...

বিবেকানন্দকে ঢাল করে বামেদের পালটা জবাব শুভেন্দুকে

দুর্গাপুজোর আবহে বাংলার রাজনীতিতে ফের সামনে এলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তবে এবার কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা সামাজিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়, বরং রাজনৈতিক তরজায়। সিপিএমের পার্টি স্টলে কোন ধরনের বই রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনার পালটা দিতে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.