পশ্চিমবঙ্গে **আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY)** চালু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের অন্যতম বড় প্রশ্ন—**আয়ুষ্মান ভারত কার্ড কবে থেকে বিতরণ শুরু হবে?** ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। সাম্প্রতিক সরকারি আপডেট অনুযায়ী, যোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য **আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বিতরণ ধাপে ধাপে শুরু হয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে নিবন্ধন ও কার্ড তৈরির কাজ চলছে।**
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে যাঁদের নাম যোগ্য সুবিধাভোগীর তালিকায় রয়েছে এবং যাঁদের নথি যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন আবেদনকারীদের তথ্য সংগ্রহ, আধার যাচাই এবং হাসপাতালগুলিকে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার কাজও চলছে। এর ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ আয়ুষ্মান ভারত কার্ড হাতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর ফলে **স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের যোগ্য সুবিধাভোগীদেরও পর্যায়ক্রমে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।** এই সংযুক্তিকরণ সম্পূর্ণ হলে লক্ষ লক্ষ পরিবার দেশের যে কোনও তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে নগদবিহীন (Cashless) চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
কারা পাবেন আয়ুষ্মান ভারত কার্ড?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ (NHA)-র নির্ধারিত যোগ্যতার তালিকায় থাকা পরিবারগুলি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এছাড়াও সম্প্রসারিত নিয়ম অনুযায়ী **৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকরাও নির্দিষ্ট শর্তে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসতে পারেন।** যোগ্যতা যাচাইয়ের পরেই কার্ড তৈরি করা হবে।
কীভাবে মিলবে কার্ড?
কার্ড বিতরণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলায় বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সরকারি কেন্দ্র এবং অনুমোদিত পরিষেবা কেন্দ্র থেকেও কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। অনেক ক্ষেত্রেই অনলাইন যাচাইয়ের পর ডিজিটাল কার্ড ডাউনলোডের সুবিধাও থাকবে। আবেদনকারীদের আধার, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখতে হবে।
কী কী সুবিধা মিলবে?
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবার প্রতি বছরে **৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদবিহীন চিকিৎসা** সুবিধা পাবেন। এই সুবিধা দেশের বিভিন্ন তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রযোজ্য হবে। গুরুতর অস্ত্রোপচার, বিশেষায়িত চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি, নির্দিষ্ট পরীক্ষাসহ একাধিক পরিষেবা এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। বর্তমানে সংসদীয় কমিটি এই বিমা কভার ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা করার সুপারিশও করেছে, যদিও এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কেন ধাপে ধাপে বিতরণ?স্বাস্থ্য দফতরের মতে, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক কার্ড বিতরণ করা সম্ভব নয়। তাই প্রথমে তথ্য যাচাই, হাসপাতাল তালিকাভুক্তকরণ, প্রযুক্তিগত সংযোগ এবং ডেটাবেস প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলার যোগ্য সুবিধাভোগীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এই পদ্ধতির ফলে ভুল তথ্য, ডুপ্লিকেট নথি এবং অনিয়মের সম্ভাবনাও কমবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ায় লক্ষ লক্ষ পরিবার উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যেসব পরিবার বড় চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সারা দেশে পোর্টেবিলিটি সুবিধা থাকায় অন্য রাজ্যের অনুমোদিত হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, **আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বিতরণ ইতিমধ্যেই ধাপে ধাপে শুরু হয়েছে এবং যোগ্য সুবিধাভোগীদের কাছে পর্যায়ক্রমে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।** সরকার আবেদন যাচাই, হাসপাতাল সংযুক্তিকরণ এবং কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ফলে আগামী দিনে আরও বেশি মানুষ এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।


