দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় সাফল্যের দাবি করল কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, **২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট ২৭৪ জন পলাতক অভিযুক্তকে ৩৬টি দেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।** প্রত্যর্পণ (Extradition), নির্বাসন (Deportation) এবং বিভিন্ন দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের দাবি, অতীতের তুলনায় এখন পলাতক অপরাধীদের দেশে ফেরানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে এই অভিযান আরও কার্যকর হয়েছে বলে সরকারের বক্তব্য।
## কোন ধরনের অভিযুক্তদের দেশে আনা হয়েছে?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরিয়ে আনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে—* সন্ত্রাসবাদ* খুন* সংগঠিত অপরাধ* আর্থিক জালিয়াতি* মাদক পাচার* মানব পাচার* চাঁদাবাজি* নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধএই সমস্ত মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
## কতটি দেশ থেকে ফিরেছেন অভিযুক্তরা?
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, **৩৬টি বিভিন্ন দেশ** থেকে এই পলাতক অভিযুক্তদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একাধিক দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, ইন্টারপোল এবং ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই অভিযান সফল হয়েছে।
## কীভাবে সম্ভব হয়েছে এই সাফল্য?
সরকার জানিয়েছে, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটি বহুমুখী কৌশল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
* আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি
* ইন্টারপোলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান
* ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি
* গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার
* বিভিন্ন দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সমন্বয়
এছাড়াও স্যাটেলাইট তথ্য, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে সরকার জানিয়েছে।
## সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার তথ্যও প্রকাশ
কেন্দ্রের দাবি, শুধু অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা নয়, তাঁদের সঙ্গে যুক্ত অবৈধ সম্পত্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। **২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ₹১৭,৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত (Attached)** করা হয়েছে, মূলত অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায়।
## নতুন আইন ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগসরকার জানিয়েছে, পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে গত কয়েক বছরে একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—* **Fugitive Economic Offenders Act**-এর কার্যকর প্রয়োগ* নতুন ফৌজদারি আইনে পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশেষ বিধান* **BHARATPOL**-এর মতো আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম চালু* কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও শক্তিশালী করাএসব উদ্যোগের ফলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের শনাক্ত ও ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়েছে বলে সরকারের দাবি।
## বছরে বছরে বেড়েছে প্রত্যর্পণের সংখ্যা
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে প্রতি বছর দেশে ফিরিয়ে আনা পলাতক অভিযুক্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে সর্বাধিক সংখ্যক অভিযুক্তকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৬ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
## জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সমন্বয়ও এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্র সরকারের দাবি অনুযায়ী **২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অভিযুক্তকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।** প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।


