কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এবার সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চলেছেন **মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি গজল জাফর**। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এই ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকা জাফর কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন বলে প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর এই পদক্ষেপকে আসন্ন পুরভোটের আগে হাত শিবিরের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
### ময়দান থেকে রাজনীতির মঞ্চে
গজল জাফর কলকাতার ক্রীড়া মহলে পরিচিত মুখ। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহু বছরের। সভাপতি হওয়ার আগে তিনি ক্লাবের সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মাত্র মাসখানেক আগে তিনি হুমায়ুন কবীরের পরিবর্তে ক্লাবের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। এবার সেই ক্রীড়া প্রশাসনের অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন।
প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, শনিবার দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক **প্রকাশ যোশী**-র উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেবেন গজল জাফর। যদিও এই যোগদানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ কলকাতার ময়দানের সঙ্গে যুক্ত কোনও বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রশাসকের এমন পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
### পুরভোটের আগে নতুন সমীকরণ
কলকাতা পুরসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে গজল জাফরের যোগদানকে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
দলের একাংশের মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কংগ্রেসে যোগদান সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন বলেই তাদের দাবি। এর আগে লেখক **মানিক ফকির** কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরও দল একই ধরনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এবার গজল জাফরের যোগদান সেই ধারাবাহিকতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
### সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে গুরুত্ব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গজল জাফরের পরিচিতি শুধু একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেই নয়, সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যেও তাঁর একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কংগ্রেসের একাংশের দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতেই এই ধরনের মুখকে সামনে আনা হচ্ছে।
তবে এটি কংগ্রেসের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। বাস্তবে ভোটের উপর এর প্রভাব কী হবে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
### কলকাতা ময়দানের রাজনৈতিক গুরুত্ব
কলকাতার ফুটবল সংস্কৃতিতে **মহামেডান স্পোর্টিং** একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। ১৮৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার ময়দানকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ক্লাব-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও, কোনও বর্তমান ক্রীড়া প্রশাসকের সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলে যোগদান স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
### ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে পরিচিত
গজল জাফর শুধু ক্রীড়া সংগঠক নন, তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকাকালীন ক্লাবের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ক্লাবের উন্নয়ন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং ক্রীড়া অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
### কংগ্রেসের কৌশল
প্রদেশ কংগ্রেসের মতে, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রের পরিচিত ব্যক্তিদের দলে আনার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চলছে। গজল জাফরের যোগদান সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেই দলের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে।
বিশেষ করে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং নতুন মুখ তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে তেমন কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
### নজরে আসন্ন রাজনৈতিক অধ্যায়
মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সভাপতির পদ থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের এই সিদ্ধান্ত গজল জাফরের ব্যক্তিগত জীবনেরও একটি বড় মোড়। ক্রীড়া প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর এবার তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।
তবে আপাতত কলকাতা পুরভোটের আগে তাঁর কংগ্রেসে যোগদানের খবরই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
—


