উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন এক যুবক, যিনি অভিযোগ অনুযায়ী নিজের **প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ি থেকেই প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার সোনা-রুপোর গয়না চুরি করেছিলেন**। পরিবারের দাবি, মন্দারমণি বেড়াতে যাওয়ার অজুহাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে প্রাক্তন শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে কার্নিশ বেয়ে দোতলায় উঠে চুরির ঘটনা ঘটান। পরে মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
### ভাঙা সম্পর্কের পর অভিযোগ চুরির
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম **তুহিন মণ্ডল**। তাঁর বাড়ি দত্তপুকুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের কালীবাড়ি এলাকায়। গত বছর রিংকি পারভিন নামে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে অশান্তি তৈরি হওয়ায় চলতি বছরের আগস্ট মাসে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। অভিযোগ, সেই সম্পর্ক ভাঙার পরই প্রাক্তন শ্বশুরবাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করেন তুহিন।
### মন্দারমণি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ছক?
পরিবারের দাবি, বুধবার তুহিন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় জানিয়েছিলেন যে তিনি মন্দারমণি বেড়াতে যাচ্ছেন এবং শুক্রবার ফিরবেন। কিন্তু তার আগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গোপনে প্রাক্তন শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির পিছনের কার্নিশ বেয়ে দোতলায় উঠে ফাঁকা ঘরে প্রবেশ করেন এবং শোকেসে রাখা সোনা ও রুপোর গয়না নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
### এক ঝলক দেখেই সন্দেহ
চুরির সময় বাড়ির ভিতরে ছিলেন রিংকির মা। অভিযোগ, পালানোর মুহূর্তে তিনি তুহিনকে এক ঝলক দেখতে পান। পরে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ঘরে ঢুকে দেখেন শোকেস তছনছ অবস্থায় রয়েছে এবং বহু মূল্যবান গয়না উধাও। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় **১৫ লক্ষ টাকার** সোনা-রুপোর গয়না চুরি হয়েছে।
এই ঘটনার পরই দ্রুত দত্তপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ধৃতের মোবাইল ফোনের অবস্থান খতিয়ে দেখতে থাকে।
### লোকেশন ট্র্যাক করেই গ্রেপ্তার
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, তুহিন বামনগাছি এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর তাঁর ছবি ও মোবাইল লোকেশন সংশ্লিষ্ট পুলিশ টিমের কাছে পাঠানো হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
### আগেও চুরির অভিযোগ?
ঘটনার পর প্রাক্তন শাশুড়ি মিনতিন্নেহেরা দাবি করেন, এটি প্রথম ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, অতীতেও তুহিন গয়না চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর কথায়, এবারও বাড়ির কার্নিশ বেয়ে উঠে গয়না নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে।
### তদন্তে একাধিক প্রশ্ন
এই ঘটনায় পুলিশ এখন একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন—
* চুরির পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল কি না।
* সম্পর্ক ভাঙার প্রতিশোধ নিতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি না।
* চুরি করা গয়নার কোনও অংশ বিক্রি বা সরানোর চেষ্টা হয়েছিল কি না।
* অতীতের অভিযোগগুলির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
### এলাকায় চাঞ্চল্য
প্রাক্তন শ্বশুরবাড়িতে চুরি করতে যাওয়ার এই ঘটনায় দত্তপুকুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, পরিচিত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এমনভাবে বাড়িতে ঢুকে চুরি করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এটি শুধুই চুরির উদ্দেশ্যে করা পরিকল্পিত অভিযান, নাকি ভাঙা বৈবাহিক সম্পর্কের জেরে প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ।


