হাওড়ায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজের মেয়েকেই খুন করার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। পারিবারিক অশান্তির জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযুক্ত বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি হাওড়ার একটি আবাসিক এলাকায় ঘটে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার দিনও সেই অশান্তি চরমে ওঠে। অভিযোগ, বচসার একপর্যায়ে অভিযুক্ত বাবা মেয়ের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। বাড়ি থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেশীদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা নাকি হঠাৎ উত্তেজনার বশে সংঘটিত অপরাধ, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিবারটিকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক বলেই মনে হত। তাই এমন নৃশংস ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সবাই হতবাক হয়ে পড়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, ঘটনার আগে তাঁরা বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন। এরপরই পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) প্রাসঙ্গিক ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এই ধরনের অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভারতীয় আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি মনোবিদদের একাংশের মতে, পারিবারিক অশান্তি বা মানসিক চাপ দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে তা কখনও কখনও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই পরিবারে সমস্যা দেখা দিলে সময়মতো পরামর্শ ও সহায়তা নেওয়া জরুরি।
বর্তমানে মৃত কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। পুলিশের দাবি, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই মর্মান্তিক ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।


