পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা এবং বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী **শুভেন্দু অধিকারী**কে উদ্দেশ্য করে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে হুমায়ুন বলেন, তিনি “উপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করবেন যাতে মুখ্যমন্ত্রী যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে “গণতান্ত্রিক রাজনীতির সীমা অতিক্রম” বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
### কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর?
সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর আচরণে অহংকার বেড়েছে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যায়, সেই প্রার্থনাই করব। আল্লাহ যেন তাঁর টিকিট কেটে দেন।”
এরপর তিনি আরও বলেন, অতীতে যখন তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন, তখনও তিনি তাঁর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন এবং সেটি পূরণ হয়েছে বলেও দাবি করেন।
### অতীতের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ
নিজের বক্তব্যে হুমায়ুন কবীর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, প্রয়াত কংগ্রেস নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়া এবং অজিত পাওয়ার-এর নামও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যেমন তাঁদের পরিণতি হয়েছে, তেমনই একদিন অহংকারের পতন হবে।” তাঁর এই মন্তব্যও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
### আগেও বিতর্কে ছিলেন
হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্য এই প্রথম নয়। অতীতেও তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে একাধিক কড়া মন্তব্য করেছিলেন। এক সময় তিনি দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি তাঁর এলাকা রেজিনগর বা নওদায় যান, তাহলে “উচিত শিক্ষা” দেবেন এবং সেই ক্ষেত্রে পুলিশকেও মানবেন না। সেই মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তাঁকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (RPI) তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে এবং উত্তেজক বক্তব্যের অভিযোগে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে।
### বিজেপির প্রতিক্রিয়া
হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যের পর বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে মৃত্যুকামনা করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভাষা হতে পারে না। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও এর আগে হুমায়ুনের বিভিন্ন মন্তব্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।
রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারও এই মন্তব্যের নিন্দা করে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু এমন ভাষা গ্রহণযোগ্য নয়।
### উপনির্বাচনের আবহে বাড়ছে উত্তেজনা
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। এর আগে হুমায়ুন কবীর এবং তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হুমায়ুনের অভিযোগ ছিল, প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কাও রয়েছে।
### রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আবহে নেতাদের বক্তব্য ক্রমশ আরও তীব্র হয়ে উঠছে। তবে রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা মৃত্যুকামনার মতো মন্তব্য জনপরিসরে গ্রহণযোগ্য কি না, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।


