Monday, October 5, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলাবাঁকুড়ায় সিজেপি সমর্থকের...

বাঁকুড়ায় সিজেপি সমর্থকের বাড়িতে সিপিএম, তোপ দিলীপের

বাঁকুড়ার ইন্দাসে সিজেপি (CJP) সমর্থকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সিপিএম নেতাদের বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ওই পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ-সহ বাম নেতৃত্বের ওই বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সিপিএমের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও একাধিক প্রশ্ন। 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি, সিপিএম এবং সিজেপিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একদিকে সিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, তাদের কর্মী আব্দুল হাফিজের পরিবারের উপর হামলা এবং তাঁর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ বিচার প্রয়োজন। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনায় দলের যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এর মধ্যেই সিপিএমের নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করায় নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। 

## বাঁকুড়ার ইন্দাসে কী ঘটেছিল?

ঘটনার সূত্রপাত বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে। সিজেপির স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল হাফিজকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, নিজের পুরনো স্কুলের বেহাল পরিকাঠামোর ছবি ও ভিডিও করার পর তাঁকে এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করা হয়। হামলার ঘটনায় গুরুতর জখম হন তাঁর বাবা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। 

ঘটনার পর থেকেই সিজেপি নেতৃত্ব সরব হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই ওই পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। যদিও অভিযোগের রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে পাল্টা বক্তব্যও সামনে এসেছে এবং বিজেপির পক্ষ থেকে দলের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানানো হয়েছে। 

ফলে ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপানউতোরও সমানতালে চলছে।

## পরিবারের পাশে সিপিএম নেতৃত্ব

এই পরিস্থিতিতেই সিপিএমের একাধিক নেতা বাঁকুড়ায় ওই পরিবারের বাড়িতে পৌঁছন। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ-সহ বাম নেতৃত্ব সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সিজেপি নেতৃত্বের সদস্যরাও ছিলেন। 

এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা। কিন্তু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কারণ সিজেপি সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে আলাদা করে সক্রিয় হয়েছে। সেই দলের একজন সমর্থকের পরিবারের সঙ্গে সিপিএম নেতৃত্বের সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়েছে।

## সিপিএমকে নিশানা দিলীপ ঘোষের

সিপিএম নেতাদের এই সফর নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি কার্যত কটাক্ষের সুরে জানতে চেয়েছেন, সিপিএম নেতারা কেন ওই পরিবারের বাড়িতে যাচ্ছেন এবং তাঁদের এই রাজনৈতিক অবস্থানের উদ্দেশ্য কী।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে সিপিএমকে আক্রমণের পাশাপাশি সিজেপিকেও কটাক্ষ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর মন্তব্যের মূল সুর ছিল, রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরির জন্য কিছু মানুষ নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলির একাংশও তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। 

তিনি সিপিএমের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

## ‘আরশোলা-ছারপোকা’ মন্তব্যে বিতর্ক

এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের একটি অংশ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তিনি সিপিএমকে আক্রমণ করে ‘আরশোলা-ছারপোকা’ প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত কটাক্ষপূর্ণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করেই করা। 

দিলীপ ঘোষের এমন মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ এই ধরনের ব্যক্তিগত বা তীব্র কটাক্ষ রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিপিএমের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরা।

## সিজেপি সমর্থকের পরিবারের পাশে কেন সিপিএম?

সিপিএমের পক্ষ থেকে অবশ্য বিষয়টিকে মানবিক এবং রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই দেখা হচ্ছে। কোনও রাজনৈতিক কর্মী বা সমর্থকের পরিবারের উপর হামলা হলে সেখানে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো বিরোধী রাজনীতির একটি অংশ হতে পারে।

বিশেষ করে যদি কোনও ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিরোধী দলগুলি সেই ঘটনা নিয়ে সরব হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

বাঁকুড়ার ক্ষেত্রেও সিপিএম সেই অবস্থানই নিয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

## ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার

এই ঘটনায় পুলিশি তদন্তও এগিয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন বিজেপি নেতাও রয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে এই গ্রেফতারি এবং রাজনৈতিক অভিযোগের মধ্যেও বিজেপির পক্ষ থেকে দলের সরাসরি যোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

ফলে তদন্তের ফলাফল এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

## সিজেপির অভিযোগ কী?

সিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল হাফিজ এবং তাঁর বাবার উপর হামলার ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের বক্তব্য, হাফিজ একটি স্কুলের বেহাল অবস্থা নিয়ে ভিডিও করছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে এবং তাঁর বাবাকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। 

এই ঘটনার পর সিজেপি নেতৃত্ব দ্রুত প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিও জানানো হয়েছে।

## বামেদের অবস্থান

সিপিএম নেতৃত্বের এই সফরকে সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই দেখতে হবে। রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ নিয়ে সিপিএম দীর্ঘদিন ধরেই সরব।

তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে কোনও মানুষের উপর হামলা হলে তার প্রতিবাদ হওয়া উচিত। সেই কারণে তারা বাঁকুড়ার ঘটনাতেও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছে।

তবে বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, সিপিএম নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জাহির করতে এই ধরনের ঘটনাকে ব্যবহার করছে।

## দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য

দিলীপ ঘোষের মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বাঁকুড়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক চলছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে শুধু সিপিএম-বিরোধী মন্তব্য হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়বে না।

এর মধ্যে রয়েছে বিজেপি বনাম সিপিএমের রাজনৈতিক সংঘাত, সিজেপির নতুন রাজনৈতিক উপস্থিতি এবং রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ—এই তিনটি বিষয়ই।

দিলীপ ঘোষ কার্যত প্রশ্ন তুলেছেন, সিপিএম কেন এমন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে, যাদের রাজনৈতিক পরিচিতি নিয়ে তাঁর নিজেরই তীব্র আপত্তি রয়েছে।

## ‘কোথায় সিজেপি, কারা নেতা?’

এর আগে বাঁকুড়ায় সিজেপি নেতৃত্বের কর্মসূচি নিয়েও দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে সিজেপির রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেতৃত্ব নিয়ে কটাক্ষের সুর পাওয়া যায়। 

এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বিজেপি নেতৃত্ব সিজেপির রাজনৈতিক কার্যকলাপকে গুরুত্ব সহকারে নজরে রাখছে।

বিশেষ করে বাঁকুড়ার ঘটনার পর সিজেপি নেতৃত্বের সক্রিয়তা বাড়ায় বিজেপির তরফে পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও আসছে।

## সিজেপির সক্রিয়তা বাড়ছে

সাম্প্রতিক সময়ে সিজেপি পশ্চিমবঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তাদের নেতারা বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে মাঠে নামছেন এবং সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

বাঁকুড়ার ঘটনাও তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ একজন সিজেপি সমর্থকের পরিবারের সদস্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তারা রাজ্য প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।

এর ফলে সিজেপিকে ঘিরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির নজরও বেড়েছে।

## রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা

বাঁকুড়ার এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে রয়েছে শাসকপক্ষ এবং বিজেপির দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে সিপিএমও সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে মাঠে নামছে।

তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিজেপির মতো নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উপস্থিতি।

ফলে আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

## রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে ফের বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ নতুন নয়। নির্বাচনের সময় বা রাজনৈতিক সংঘাতের সময়ে বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসে।

বাঁকুড়ার ঘটনাও সেই বৃহত্তর বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।

তবে কোনও ঘটনাকে রাজনৈতিক হিংসা হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে পুলিশের তদন্ত চলছে এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা বিচারাধীন।

## তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসা। হামলার পিছনে কারা ছিল, কেন হামলা হয়েছিল, রাজনৈতিক কোনও কারণ ছিল কি না এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিরা কারা—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত থেকেই পাওয়া যাবে।

পুলিশ ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। এখন তদন্তে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা।

রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের বাইরে প্রকৃত সত্য জানা জরুরি।

## দিলীপ ঘোষ বনাম সিপিএম

দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের ফলে বিজেপি এবং সিপিএমের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সিপিএম যদি পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয়, তাহলে বাঁকুড়ার ঘটনা আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হতে পারে।

বিশেষ করে শতরূপ ঘোষের মতো পরিচিত বাম নেতার ওই পরিবারের বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপির সমালোচনা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।

## মানবিকতার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ

যদিও রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে এই ঘটনার একটি মানবিক দিকও রয়েছে। একজন পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং সমবেদনা জানানো যে কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষেই মানবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এই জায়গা থেকেই সিপিএমের সফরকে দেখছেন তাঁদের সমর্থকেরা।

অন্যদিকে বিজেপির প্রশ্ন হল, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের ঘটনাকে বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে কি না।

দুই পক্ষের এই ভিন্ন ব্যাখ্যাই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

## সামনে কী হতে পারে?

আগামী দিনে বাঁকুড়ার এই ঘটনা নিয়ে আরও রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে পারে। সিজেপি ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রতিবাদে সরব। সিপিএমও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক তদন্তের কথা বলছে।

ফলে ঘটনাটি শুধু একটি স্থানীয় অপরাধের তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হবে, তা আগামী দিনের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে।

## শেষ কথা

বাঁকুড়ার ইন্দাসে সিজেপি সমর্থক আব্দুল হাফিজের পরিবারের উপর হামলা এবং তাঁর বাবার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাফিজ ও তাঁর বাবার উপর হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। পুলিশ এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত চালাচ্ছে। 

এরই মধ্যে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ-সহ বাম নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন। এই সফর নিয়েই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সিপিএম কেন সিজেপি সমর্থকের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি কটাক্ষের ভাষায় বামেদের আক্রমণ করেছেন। 

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই হামলার সঙ্গে দলের যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীও দলের কোনও যোগ নেই বলে জানিয়েছেন। 

ফলে এখন এই ঘটনার রাজনৈতিক এবং আইনি—দুই দিকই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে পুলিশের তদন্ত থেকে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসার অপেক্ষা, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সিপিএমের এই সফর এবং দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ আগামী দিনে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.