বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল রণক্ষেত্রে। শুধুমাত্র খাবারের মেনু ঘিরে শুরু হওয়া এক তুচ্ছ বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিল। বিহারের সাহারসা জেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য মাটন পরিবেশন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু বাস্তবে ভোজে পরিবেশন করা হয় চিকেন। আর সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বচসা, যা অল্প সময়ের মধ্যেই মারাত্মক হাতাহাতি ও লাঠিসোঁটার সংঘর্ষে পরিণত হয়। ঘটনায় একাধিক বরযাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বিহারের সাহারসা জেলার মহিশী ব্লকের রাজনপুর গ্রামে এই বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়েই বিয়ের সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় ভোজপর্বে। বরপক্ষের কয়েকজন অতিথির অভিযোগ, তাঁদের আগেই জানানো হয়েছিল যে মেনুতে থাকবে মাটন। কিন্তু খাবারের লাইনে গিয়ে তাঁরা দেখেন পরিবেশন করা হচ্ছে চিকেন।
এই বিষয়টি নিয়ে প্রথমে বরপক্ষের কয়েকজন সদস্য আয়োজকদের কাছে আপত্তি জানান। তাঁরা জানতে চান, কেন প্রতিশ্রুতি দেওয়া মাটনের পরিবর্তে চিকেন পরিবেশন করা হল। শুরুতে বিষয়টি শুধুমাত্র কথাকাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চোখের নিমেষে দুই পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, কিল-ঘুষি এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারি শুরু হয়ে যায়। অনুষ্ঠানের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তে আতঙ্কে ভরে ওঠে। অতিথিরা প্রাণ বাঁচাতে চারদিকে ছুটতে শুরু করেন। অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নেয়। চিৎকার, হুড়োহুড়ি এবং মারামারির কারণে দীর্ঘক্ষণ ভোজ বন্ধ রাখতে হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু নারী ও শিশু আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে বরপক্ষের একাধিক সদস্য আহত হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, অন্তত ৬ থেকে ১২ জন পর্যন্ত আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই অবশ্য অনেক অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে মাটনের পরিবর্তে চিকেন পরিবেশন করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে দুই পক্ষের অভিযোগও সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শুধুমাত্র খাবারের মেনুকে কেন্দ্র করে কীভাবে এত বড় হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়ন নিয়ে প্রত্যাশা বেশি থাকায় সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও অনেক সময় বড় সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলিতে আগে থেকেই অতিথিদের সঙ্গে স্পষ্টভাবে যোগাযোগ রাখা এবং খাবারের মেনু সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। না হলে ভুল প্রত্যাশা থেকে এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
যদিও এই ঘটনায় বিয়ের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু আনন্দের দিনটি শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত সংঘর্ষের জন্যই শিরোনামে উঠে এসেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।


