২১ জুলাই শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যখন প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালনের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতি বছর ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে শহিদ দিবস পালন করা হয়। এই দিনকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক কলকাতায় আসেন। ধর্মতলা চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় বিশাল জনসমাগম হয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা, যান চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এবারও সেই ধারাবাহিকতায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতির আবেদন করা হয়েছিল। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আবেদন খতিয়ে দেখার পর নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলার কথা আয়োজকদের জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ধর্মতলা এলাকা এবং আশপাশের রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কুইক রেসপন্স টিম, ট্রাফিক পুলিশ, সিসিটিভি নজরদারি এবং ড্রোন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, ২১ জুলাইয়ের মতো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। তাই শুধুমাত্র সভাস্থল নয়, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাস এবং শহরের প্রবেশপথেও নজরদারি বাড়ানো হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মেডিক্যাল টিম, অ্যাম্বুল্যান্স এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহিদ দিবস তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শুধুমাত্র একটি স্মরণসভা নয়, বরং সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাই এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের অনুমতি মিলতেই কর্মসূচির প্রস্তুতিতে আরও গতি এসেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। সভার মঞ্চ, বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, চিকিৎসা শিবির এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যানজট এড়াতে বিভিন্ন রুট এবং প্রবেশ ও প্রস্থান পথ নিয়েও আলোচনা চলছে।
ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১ জুলাই শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলে পরিবর্তন আনা হতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ে কিছু রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত বা ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। সাধারণ মানুষকে আগাম ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি দেখে যাতায়াতের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিষেবা সচল রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসনের প্রতিটি দফতর সমন্বয় রেখে কাজ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই অনুমতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন মেনে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। সেই ভারসাম্য বজায় রেখেই কলকাতা পুলিশ এই অনুমতি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে কলকাতা এখন থেকেই রাজনৈতিকভাবে সরগরম। প্রশাসন, পুলিশ এবং আয়োজক—তিন পক্ষই যাতে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। আগামী কয়েকদিনে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।


