নীট (NEET) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কলকাতায় হওয়া বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল **কলকাতা হাই কোর্ট**। ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আদালত রাজ্য প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও আদালত জানতে চেয়েছে। এই নির্দেশের পর ঘটনাটি নতুন আইনি ও প্রশাসনিক মাত্রা পেল |
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নীট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মারধর করা হয় এবং তাঁদের ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়ে চিকিৎসাও নেন।
এই ঘটনার পর সাংবাদিক সংগঠনগুলি তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কলকাতায় শতাধিক সাংবাদিক মিছিল করে হামলার নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপরও আঘাত।
এরই মধ্যে বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টের নজরে আসে। জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চায়, হামলার ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত কতদূর এগিয়েছে। পাশাপাশি আদালত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়েও রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে যে, ঘটনায় একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে বিক্ষোভ-সংক্রান্ত সহিংসতার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত তাঁদের আইনত দোষী বলা যায় না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ সংগ্রহের অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাংবাদিকরা জনস্বার্থে কাজ করেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। আদালতের এই নির্দেশ ভবিষ্যতে জনসমাবেশ বা বিক্ষোভ কভার করতে যাওয়া সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টেও নীট বিক্ষোভের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক আবেদন দাখিল হয়েছে। শীর্ষ আদালতও বিষয়টির গুরুত্ব স্বীকার করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন নিজের গতিতে চলবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, কোনও ধরনের হিংসা বা আইনভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না।
মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জনসমাবেশ বা আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আয়োজক এবং সংবাদমাধ্যম—তিন পক্ষের মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন। নিরাপত্তা প্রোটোকল আরও সুসংহত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, **নীট বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টের রিপোর্ট তলব** বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আদালতে জমা পড়া রিপোর্ট, তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।


