Monday, August 17, 2026

Creating liberating content

সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য,...

# সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশে বড়সড়...

রেলস্টেশনের জলে E. coli,...

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E....

মমতার ফোনে ‘আরশোলা’ কর্মী,...

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য...

পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত...

পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরে উঠল গুরুতর অভিযোগ। **মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে...
Homeবাংলাডাক্তারি সামলে বিজেপির...

ডাক্তারি সামলে বিজেপির কেন্দ্রীয় দলে মধুছন্দা

পেশায় বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্ট। চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবার জাতীয় স্তরে বড় দায়িত্ব পেলেন বাংলার মধুছন্দা কর। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নতুন কেন্দ্রীয় টিমে **সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি** হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তিনি। সোমবার বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের ঘোষণা সামনে আসতেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে মধুছন্দা করকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। 

শুধু মধুছন্দা কর নন, বাংলার আরও এক পরিচিত বিজেপি নেতা মনোজ টিগ্গাও নীতীন নবীনের নতুন টিমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ফলে একই সঙ্গে বাংলার দুই নেতাকে বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়াকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

তবে মধুছন্দা করের উত্থানটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ তিনি একদিকে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন। এবার সেই রাজ্যস্তরের দায়িত্ব থেকে সরাসরি বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে এলেন তিনি।

## নীতীন নবীনের নতুন টিমে বড় চমক

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতীন নবীন দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই নতুন টিমেই একাধিক চমক রয়েছে। অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত নতুন প্রজন্মের মুখকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলা থেকে মধুছন্দা কর এবং মনোজ টিগ্গার অন্তর্ভুক্তি সেই সাংগঠনিক পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

মনোজ টিগ্গা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সাংসদ হিসেবে পরিচিত মুখ। অন্যদিকে মধুছন্দা কর মূলত চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হলেও বিজেপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়ছিল।

এবার জাতীয় স্তরে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিও আরও বড় পরিসর পেল।

## কে এই মধুছন্দা কর?

মধুছন্দা করের পরিচয়ের সঙ্গে প্রথমেই উঠে আসে তাঁর চিকিৎসক সত্তা। তিনি পেশায় একজন **অঙ্কোলজিস্ট**, অর্থাৎ ক্যানসার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। কলকাতার চিকিৎসক মহলে তাঁর পরিচিতিও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক যোগ্যতা ও ফেলোশিপ রয়েছে। ক্যানসারের মতো জটিল এবং প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

বর্তমানে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে তিনি যুক্ত বলে সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

অর্থাৎ রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগেই চিকিৎসাক্ষেত্রে নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন মধুছন্দা কর।

## চিকিৎসা থেকে রাজনীতির ময়দানে

চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি জনসেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ ধরেই মধুছন্দা করের রাজনীতিতে প্রবেশ। বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা বাড়তে থাকে।

রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সেলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এই পদে থেকে চিকিৎসক সমাজের সঙ্গে দলের যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। 

চিকিৎসকদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলা বিজেপির বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরও অংশ। স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চিকিৎসক সমাজের সঙ্গে দলের যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করতে চিকিৎসক সেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সেই সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা মধুছন্দা কর এবার জাতীয় স্তরের দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বও অনেকটাই বেড়ে গেল।

## সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব

মধুছন্দা করকে বিজেপির **National Vice-President বা সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি** করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদ।

রাজ্যস্তরের কোনও সাংগঠনিক পদ থেকে সরাসরি জাতীয় স্তরের নেতৃত্বে জায়গা পাওয়া যে কোনও রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রেই বড় সাফল্য। মধুছন্দা করের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই।

বিশেষ করে তাঁর মূল পেশা চিকিৎসা হওয়ায় এই নিয়োগ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে পেশাজীবী এবং বিশেষজ্ঞদের আরও বেশি জায়গা দেওয়ার প্রবণতারও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

## বাংলার দুই মুখ পেল কেন্দ্রীয় দায়িত্ব

নীতীন নবীনের নতুন টিমে বাংলার দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখ জায়গা পেয়েছেন। মধুছন্দা কর হয়েছেন জাতীয় সহ-সভাপতি এবং মনোজ টিগ্গা পেয়েছেন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। 

মনোজ টিগ্গা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার থেকে জয়ী হন। উত্তরবঙ্গের চা-বলয় এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। 

অন্যদিকে মধুছন্দা কর কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের চিকিৎসক মহলে পরিচিত মুখ। ফলে দুই নেতার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রও অনেকটাই আলাদা।

একজন উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক রাজনীতির পরিচিত মুখ, অন্যজন পেশাজীবী এবং চিকিৎসক সমাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাঁদের একসঙ্গে কেন্দ্রীয় সংগঠনে জায়গা দেওয়া বিজেপির সাংগঠনিক বৈচিত্র্য বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

## চিকিৎসক সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে জাতীয় রাজনীতি

মধুছন্দা কর এতদিন রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। সেই দায়িত্বে থেকে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে দলের যোগাযোগ তৈরি এবং সংগঠনকে সক্রিয় রাখার কাজে যুক্ত ছিলেন।

এবার জাতীয় স্তরে দায়িত্ব পাওয়ার ফলে তাঁর কাজের পরিধি স্বাভাবিকভাবেই আরও বাড়বে।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের কাজের সঙ্গে সমন্বয় করা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নীতিগত আলোচনায় দলের অবস্থানকে সামনে আনার মতো বিষয় তাঁর দায়িত্বের অংশ হতে পারে।

তবে নতুন দায়িত্বে ঠিক কোন কোন সাংগঠনিক কাজ করবেন, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

## ক্যানসার চিকিৎসার অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ

মধুছন্দা করের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তাঁর অনকোলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ। ক্যানসার চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল একটি ক্ষেত্র। দীর্ঘ চিকিৎসা, ব্যয়বহুল ওষুধ এবং রোগীর পরিবারের আর্থিক চাপ—সব মিলিয়ে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে স্বাস্থ্যনীতি ও জনস্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

ফলে জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক সংগঠনে একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণ ও জনসচেতনতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিজেপি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কীভাবে কাজে লাগায়, সেটিও নজরে থাকবে।

## রাজনীতিতে পেশাজীবীদের গুরুত্ব

ভারতীয় রাজনীতিতে চিকিৎসক, অধ্যাপক, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলি পেশাজীবী সমাজের প্রতিনিধিদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসার দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।

মধুছন্দা করের নিয়োগও সেই প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা যেতে পারে।

একজন চিকিৎসকের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং একজন রাজনৈতিক কর্মীর সাংগঠনিক দক্ষতা—এই দুইয়ের সমন্বয় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ধরনের ভূমিকা তৈরি করতে পারে।

## নারী নেতৃত্বকেও গুরুত্ব?

মধুছন্দা করের জাতীয় সহ-সভাপতি হওয়াকে বিজেপির মহিলা নেতৃত্বকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে।

তিনি একই সঙ্গে চিকিৎসক এবং রাজনৈতিক সংগঠক। ফলে তাঁর পরিচয় শুধুমাত্র একজন মহিলা নেত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন পেশাজীবী নারী হিসেবে তাঁর আলাদা পরিচয় রয়েছে।

জাতীয় স্তরে এমন মুখকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার ফলে দলের মহিলা কর্মী এবং পেশাজীবী মহলেও ইতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

## ‘টিম নবীন’-এর লক্ষ্য কী?

নীতীন নবীনের নতুন কেন্দ্রীয় টিমে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। মধুছন্দা করের মতো অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত কিন্তু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতাসম্পন্ন নেতাকে সামনে আনা সেই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। 

বিজেপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে জাতীয় সংগঠন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সমাজসেবা এবং অন্যান্য পেশার মানুষদের যুক্ত করা সেই বৈচিত্র্য তৈরি করতে পারে।

মধুছন্দা করের নিয়োগ সেই দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।

## বাংলার রাজনীতিতে এর প্রভাব কী?

মধুছন্দা করের জাতীয় স্তরে উন্নীত হওয়া বাংলার বিজেপির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের চিকিৎসক সমাজ এবং শহুরে মধ্যবিত্ত পেশাজীবী মহলে দলের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিশেষ করে কলকাতার মতো শহরে চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।

তবে তাঁর নতুন দায়িত্ব শুধু বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে তাঁকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনের কাজ করতে হতে পারে।

## বিজেপির চিকিৎসক সেলের ভূমিকা

বিজেপির চিকিৎসক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী শাখা। স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আলোচনা, চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে এই সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে।

মধুছন্দা কর সেই সংগঠনের রাজ্যস্তরের নেতৃত্বে ছিলেন। তাই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং চিকিৎসক সমাজের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা জাতীয় স্তরে তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে।

## মধুছন্দার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া যেমন বড় সম্মান, তেমনই বড় দায়িত্ব। কারণ একজন চিকিৎসকের ব্যস্ত পেশাজীবনের পাশাপাশি এখন তাঁকে জাতীয় রাজনীতির সাংগঠনিক কাজও সামলাতে হবে।

নিজের চিকিৎসা পেশা, রোগীদের দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক সংগঠনের কাজ—এই তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য রাখা তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন দায়িত্বের সঙ্গে চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততা কীভাবে সামলাবেন, সে বিষয়ে এখনও মধুছন্দা করের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

## চিকিৎসা পেশা কি ছাড়বেন?

মধুছন্দা কর তাঁর চিকিৎসা পেশা ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে আসবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তাঁর বর্তমান পেশাগত পরিচয় এবং জাতীয় রাজনৈতিক দায়িত্ব—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তিনি কীভাবে সময় ভাগ করবেন, সেটি আগামী দিনে আলোচনার বিষয় হতে পারে।

তবে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতাই তাঁকে রাজনৈতিক সংগঠনে একটি বিশেষ পরিচয় দিয়েছে। তাই চিকিৎসা পেশার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় রাখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

## বাংলার নতুন প্রজন্মের মুখ?

মধুছন্দা করকে ‘নবীন টিম’-এর অন্যতম নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতাদের জাতীয় সংগঠনে সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা বিজেপির সাংগঠনিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তাঁর নিয়োগ দেখিয়ে দিয়েছে, জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাই একমাত্র মানদণ্ড নয়।

নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা, সাংগঠনিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগের ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

## মনোজ টিগ্গার দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ

বাংলা থেকে মধুছন্দা করের পাশাপাশি মনোজ টিগ্গাকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ২০২৪ সালে আলিপুরদুয়ার থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। 

চা-বলয়ের রাজনীতি, উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক কাঠামো এবং দীর্ঘদিনের দলীয় কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে কেন্দ্রীয় সংগঠনের জন্য উপযুক্ত মুখ করে তুলেছে।

ফলে বাংলার দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের নেতাকে কেন্দ্রীয় টিমে নিয়ে বিজেপি রাজ্যটির সাংগঠনিক গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

## বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে বাংলার গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রাজ্য। বিধানসভা এবং লোকসভা—দুই ক্ষেত্রেই রাজ্যটির আসনসংখ্যা এবং রাজনৈতিক প্রভাব যথেষ্ট বেশি।

সেই কারণে কেন্দ্রীয় সংগঠনে বাংলার নেতাদের জায়গা দেওয়া দলের রাজনৈতিক কৌশলের অংশও হতে পারে।

মধুছন্দা করের নিয়োগের মাধ্যমে শহুরে পেশাজীবী এবং চিকিৎসক মহলের প্রতিনিধিত্ব বাড়ল, আর মনোজ টিগ্গার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হল।

## জাতীয় স্তরে মধুছন্দার ভূমিকা কী হবে?

নতুন দায়িত্বে মধুছন্দা করকে ঠিক কোন কোন রাজ্য বা সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হতে পারে।

সাধারণত জাতীয় সহ-সভাপতিরা দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, প্রচার, বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের কাজে যুক্ত থাকেন।

তাঁর ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে।

## স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে কি সক্রিয় হবেন?

মধুছন্দা করের অনকোলজি অভিজ্ঞতা তাঁকে স্বাস্থ্যনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় আলাদা গুরুত্ব দিতে পারে।

ক্যানসার চিকিৎসার খরচ, স্বাস্থ্যবিমা, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ, রোগীর অধিকার, চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতার মতো বিষয়গুলিতে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তাই বিজেপির জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনও রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক উদ্যোগে তাঁকে সামনে আনা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহের সৃষ্টি করবে।

তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।

## রাজনীতির বাইরে তাঁর পেশাগত পরিচয়

মধুছন্দা করের রাজনৈতিক পরিচয় যতই বাড়ুক, চিকিৎসক হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজও গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় যুক্ত থাকার কারণে প্রতিদিন রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা একজন রাজনৈতিক নেতার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকায় নীতিগত আলোচনায় তাঁর বক্তব্য আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে।

## নতুন দায়িত্বে বড় পরীক্ষা

জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব মধুছন্দা করের রাজনৈতিক জীবনে বড় মাইলস্টোন। এতদিন রাজ্যস্তরে চিকিৎসক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া থেকে এখন জাতীয় সংগঠনের অংশ হওয়া তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড় পরিবর্তন।

তবে জাতীয় স্তরে কাজের পরিধি অনেক বেশি। বিভিন্ন রাজ্যের সংগঠন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে কাজ করতে হবে।

সেই কারণে আগামী কয়েক মাস তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

## বঙ্গ বিজেপিতে নতুন সমীকরণ

বাংলা বিজেপিতে ইতিমধ্যেই একাধিক নতুন মুখ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে কেন্দ্রীয় সংগঠনের সঙ্গে রাজ্য সংগঠনের সমন্বয় এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে মধুছন্দা করের মতো নতুন জাতীয় মুখ এবং মনোজ টিগ্গার মতো অভিজ্ঞ সাংগঠনিক নেতাকে কেন্দ্রীয় টিমে নেওয়া রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

## সামনে আরও দায়িত্ব বাড়তে পারে?

জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করতে গিয়ে মধুছন্দা কর যদি সাংগঠনিক ক্ষেত্রে সফল হন, তাহলে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

তবে আপাতত তাঁর সামনে প্রথম লক্ষ্য হবে নতুন দায়িত্বের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় সংগঠনের কাজে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া।

তাঁর চিকিৎসা পেশা এবং রাজনৈতিক কাজের সমন্বয়ও নজরে থাকবে।

## শেষ কথা

চিকিৎসাক্ষেত্রে নিজের পরিচয় তৈরি করার পর এবার জাতীয় রাজনীতিতে বড় পদে উঠে এলেন বাংলার চিকিৎসক মধুছন্দা কর। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নতুন কেন্দ্রীয় টিমে তাঁকে **জাতীয় সহ-সভাপতি** করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলার আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাও জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। 

মধুছন্দা করের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হল—তিনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মী নন, একজন প্রতিষ্ঠিত অনকোলজিস্টও। রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবার তাঁকে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে নিয়ে এল।

চিকিৎসা পেশা এবং রাজনীতির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখবেন, জাতীয় সংগঠনে তাঁর ভূমিকা কী হবে এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে দলের কাজে কতটা ব্যবহার করতে পারবেন—এখন সেই দিকেই নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, নীতীন নবীনের নতুন টিমে মধুছন্দা করের অন্তর্ভুক্তি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উত্থান নয়, বাংলার পেশাজীবী এবং চিকিৎসক মহলকে বিজেপির জাতীয় সংগঠনে আরও দৃশ্যমান করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস

# সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করার দাবি করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, পাকিস্তানভিত্তিক এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI-সমর্থিত **শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)**-এর বিরুদ্ধে বড়সড়...

রেলস্টেশনের জলে E. coli, ২০ হাজার পয়েন্টে বড় বদল

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E. coli ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি** ধরা পড়েছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা CAG-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে রেল মন্ত্রক। যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানীয়...

মমতার ফোনে ‘আরশোলা’ কর্মী, পাশে থাকার বার্তা

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। মৃত শেখ মাফিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলাই নয়, পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে ফোনেও কথা...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.