Saturday, August 15, 2026

Creating liberating content

A ton of class!...

Devdutt Padikkal celebrates after scoring his maiden Test century at Galle. (Photo:...

Devdutt Padikkal or Sai...

India's Devdutt Padikkal celebrates his century during the day one of the...

‘I now know I...

Grandmaster Hikaru Nakamura has explained what happened during his chaotic third-place...

চাকরির খোঁজে বেঙ্গালুরু, TTP...

উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় একাধিক পরীক্ষা...
Homeবাংলাধর্মতলা পরিষ্কার করুন,...

ধর্মতলা পরিষ্কার করুন, নির্দেশ শমীক ভট্টাচার্যের

কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহাসিক এলাকা ধর্মতলাকে দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করার বিষয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মতলার ফুটপাত দখল করে তৈরি হওয়া অস্থায়ী কাঠামো এবং প্লাস্টিকের আচ্ছাদন সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিতে হবে। এই কাজের জন্য আর কোনও আলাদা নির্দেশের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বলেও দলীয় কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন তিনি। 

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু ফুটপাতের একটা বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের সমস্যায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও দোকানের সামনে প্লাস্টিকের চাদর টাঙানো, কোথাও ফুটপাতের উপর অস্থায়ী ব্যবসা—এই পরিস্থিতি নিয়েই এবার সরব হয়েছেন শমীক।

### ধর্মতলার ফুটপাত দখল নিয়ে কড়া বার্তা

বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মতলা ও এসপ্ল্যানেডের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে। একইসঙ্গে কলকাতার অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।

শমীকের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী দোকানগুলির প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, বহু শতাব্দীপ্রাচীন বা দীর্ঘদিনের দোকানদাররা নিয়মিত পুরসভাকে কর দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। অথচ ফুটপাতের উপর বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী কাঠামো তৈরি হওয়ায় তাঁদের দোকানের সামনের অংশও আড়াল হয়ে যাচ্ছে। ফলে পুরনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ফুটপাতের অবৈধ দখল সরানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন। 

### কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ

ধর্মতলার পরিস্থিতি বদলাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—দখলদারি সরানোর জন্য উপরমহল থেকে আলাদা নির্দেশ আসার অপেক্ষা না করে স্থানীয় স্তরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

দলের কাউন্সিলরদের উদ্দেশে তিনি ধর্মতলা পরিষ্কার করার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, নতুন প্রশাসনের পরিবর্তনের প্রতিফলন সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান করতে হলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলির চেহারায় পরিবর্তন আনতে হবে। ধর্মতলার মতো জায়গা সেই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। 

### শুধু ফুটপাত নয়, গোটা এলাকা পরিষ্কারের বার্তা

শমীকের বক্তব্যে শুধু ফুটপাত থেকে প্লাস্টিক সরানোর কথা নয়, গোটা ধর্মতলা-এসপ্ল্যানেড এলাকার পরিস্থিতি বদলের কথাও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, রাস্তার ধারে দোকান বা ব্যবসা থাকবে, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গা দখল করা উচিত নয়।

একদিকে পুরনো ব্যবসায়ীদের বৈধ ব্যবসার অধিকার রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে বেআইনি দখলদারি বা ফুটপাত আটকে রাখার প্রবণতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সেই ভারসাম্য বজায় রেখেই কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

### সংঘাত নয়, সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান

ফুটপাত দখলমুক্ত করার মতো পদক্ষেপ অনেক সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সেই বিষয়টিও মাথায় রেখেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও ধরনের অশান্তি তৈরি না করে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ, শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান করার বদলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পুরসভা, কাউন্সিলর এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এতে একদিকে পথচারীদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় সমস্যার সৃষ্টি হবে না।

### পথচারীদের দুর্ভোগ কমানোর দাবি

কলকাতার ব্যস্ততম এলাকাগুলির মধ্যে ধর্মতলা অন্যতম। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, পর্যটক, পড়ুয়া—বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ প্রতিদিন এই এলাকায় যাতায়াত করেন। ধর্মতলা মেট্রো, বাস পরিষেবা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ ব্যবস্থার সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে সবসময়ই মানুষের ভিড় থাকে।

এই পরিস্থিতিতে ফুটপাত দখল হয়ে গেলে পথচারীদের অনেক সময় রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং শারীরিকভাবে অসুবিধায় থাকা মানুষের জন্য দখলমুক্ত ফুটপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শমীকের বার্তার মধ্যে তাই শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, নাগরিক পরিষেবার বিষয়টিও রয়েছে। ফুটপাতকে সাধারণ মানুষের হাঁটার উপযোগী করে তোলাই তাঁর ঘোষিত উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট। 

### নতুন সরকারের কাজ দৃশ্যমান করার বার্তা

বাংলায় নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। তিনি মনে করছেন, নতুন সরকারের পরিবর্তন সাধারণ মানুষের চোখে দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। সেই পরিবর্তনের অন্যতম দিক হতে পারে শহরের ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করা।

কলকাতার মতো বড় শহরে নাগরিক পরিষেবা সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। রাস্তা পরিষ্কার রাখা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বেআইনি নির্মাণ বা অস্থায়ী কাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া—এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের কাজের দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে ওঠে।

এই কারণেই ধর্মতলাকে কেন্দ্র করে শমীকের বক্তব্যকে শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর সঙ্গে নতুন প্রশাসনের কার্যকারিতা এবং শহর পরিচালনার বার্তাও জড়িয়ে রয়েছে।

### পুরনো ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষার কথাও

ধর্মতলার ফুটপাত দখল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শমীক পুরনো দোকানদারদের বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বেআইনি দখলদারি সরানোর সময় বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

ধর্মতলা এলাকায় বহু পুরনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কিছু পরিবার সেখানে ব্যবসা করে আসছে। নিয়মিত কর প্রদানকারী এই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ফুটপাত দখল করে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা ব্যক্তিদের এক করে দেখার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

তাই দখলমুক্তির প্রক্রিয়ায় বৈধ এবং অবৈধ ব্যবসার মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। প্রশাসনের সামনে এটিই হতে পারে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

### বাস্তবে কী পদক্ষেপ হয়, নজর সেদিকে

শমীক ভট্টাচার্যের কড়া নির্দেশের পর এখন নজর বাস্তবে কত দ্রুত ধর্মতলা-এসপ্ল্যানেড এলাকায় পদক্ষেপ শুরু হয়। শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই ফুটপাত পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

বিশেষ করে কাউন্সিলরদের স্থানীয় স্তরে কী ধরনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়, পুরসভা কী ভূমিকা নেয় এবং পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।

দখলমুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে নিয়ম মেনে এবং শান্তিপূর্ণভাবে অভিযান পরিচালনা করা। কারণ একদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অন্যদিকে বহু মানুষের জীবিকা ও ব্যবসার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে।

### ধর্মতলার চেহারা বদলের প্রতিশ্রুতি

স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে শমীকের এই বক্তব্যের ফলে ধর্মতলার ফুটপাত ও দখলদারি ইস্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এবার প্রশাসন কতটা কার্যকর পদক্ষেপ করে, তা দেখার অপেক্ষায় কলকাতাবাসী।

ধর্মতলা শুধু কলকাতার একটি বাণিজ্যিক এলাকা নয়, এটি শহরের ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। ফলে এই এলাকার সৌন্দর্য এবং পথচারীবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি দীর্ঘদিনের।

শমীকের বক্তব্যে তাই একদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কড়া অবস্থান, অন্যদিকে পুরনো ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষার বার্তা—দুই দিকই রয়েছে। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী যদি প্রশাসন দ্রুত এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করে, তাহলে ধর্মতলার বর্তমান চেহারায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ধর্মতলা নিয়ে কড়া বার্তা কলকাতার নাগরিক পরিষেবা এবং ফুটপাত দখল ইস্যুকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি স্থানীয় কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কোনও অতিরিক্ত নির্দেশের অপেক্ষা না করার বার্তা দিয়েছেন। 

এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই রাজনৈতিক নির্দেশ কত দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপে পরিণত হয়। ধর্মতলার ফুটপাত সত্যিই দখলমুক্ত হয় কি না, পুরনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় কি না—সেদিকেই নজর থাকবে শহরবাসীর।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

চাকরির খোঁজে বেঙ্গালুরু, TTP যোগে ধৃত যুবক

উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় একাধিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু সাফল্য না আসায় শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ শুরু করেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার ২৫ বছরের যুবক আশাফুল মালিক। আর সেখানেই...

দলীয় পতাকার নিচে জাতীয় পতাকা, বিতর্কে সিপিএম

স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়াল সিপিএম। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ ও উত্তর দমদমের নিমতা এলাকায় দলের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সিপিএমের লাল দলীয় পতাকা জাতীয় পতাকার তুলনায় বেশি...

মধ্যপ্রদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, বড় ঘোষণা মোহন যাদবের

স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে বড় ঘোষণা করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। রাজ্যে দ্রুত কার্যকর করা হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা Uniform Civil Code (UCC)। শনিবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রদেশ সরকার...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.