ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ফের বাড়ছে সামরিক তৎপরতা। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান ভারতের সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় **প্রায় ২৫০টি চিনা নির্মিত SH-15 স্বচালিত হাউইটজার** মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপকে পাকিস্তানের দীর্ঘপাল্লার কামান শক্তি বাড়ানোর বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত ভারতমুখী বিভিন্ন সেক্টরে ধাপে ধাপে এই ১৫৫ মিমি, ৫২-ক্যালিবার SH-15 হাউইটজার মোতায়েন করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনের ফলে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের দ্রুত গোলাবর্ষণ এবং উচ্চ গতিতে অবস্থান পরিবর্তনের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
## কী এই SH-15 হাউইটজার?
SH-15 হল চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা **Norinco**-র তৈরি একটি ট্রাকভিত্তিক স্বচালিত হাউইটজার। এটি ১৫৫ মিমি কামান বহন করে এবং ন্যাটো মানের গোলাবারুদ ব্যবহার করতে সক্ষম। সাধারণ গোলাবারুদ দিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং বিশেষ রকেট-সহায়ক গোলাবারুদ ব্যবহার করলে আরও বেশি দূরে আঘাত হানতে পারে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দ্রুত মোতায়েন এবং দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের ক্ষমতা, যা আধুনিক যুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
## কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মোতায়েন?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান গত কয়েক বছর ধরে তার আর্টিলারি বাহিনী আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে। SH-15-এর মতো আধুনিক স্বচালিত কামান যুক্ত হওয়ায় সীমান্তে তাদের প্রচলিত যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে দ্রুত মোতায়েন, উন্নত ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং উচ্চ গতিশীলতা এই অস্ত্রকে কার্যকর করে তুলেছে।
## চিন-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীরSH-15 হাউইটজার পাকিস্তানের হাতে আসা চিন ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এর আগে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহেও চিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক এই মোতায়েন সেই সহযোগিতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
## ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করে?
প্রতিরক্ষা মহলের মতে, সীমান্তে পাকিস্তানের এই সামরিক শক্তিবৃদ্ধির উপর ভারতীয় সেনাবাহিনী নজর রাখছে। ভারতের কাছেও K9 Vajra-সহ আধুনিক আর্টিলারি ব্যবস্থা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশীয় ও বিদেশি প্রযুক্তির মাধ্যমে কামান বাহিনীর আধুনিকীকরণে জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে সীমান্তের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা ভারতেরও রয়েছে।
## সীমান্তে বাড়ছে সতর্কতাযদিও পাকিস্তানের এই মোতায়েন নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও মন্তব্য করা হয়নি, তবুও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে সীমান্ত পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে বলেও মত তাঁদের।
## আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণবিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে SH-15 হাউইটজারের মতো আধুনিক আর্টিলারি মোতায়েন শুধু পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে কৌশলগত ভারসাম্য নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করে। ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উপর এই পদক্ষেপের প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলের।


