বর্ষা সক্রিয় থাকায় দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। সোমবার, ৩ আগস্টও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এর জেরে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে। সেই সঙ্গে মৌসুমি অক্ষরেখার অনুকূল অবস্থান এবং বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে অনুকূল পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণবঙ্গে মেঘ সঞ্চার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলেই দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারী বর্ষণ হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
কলকাতায় সকাল থেকেই আকাশ আংশিক থেকে সম্পূর্ণ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুর বা বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। ফলে খোলা জায়গায় অবস্থান, জলাশয়ের ধারে যাওয়া বা বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য এবং ডুয়ার্স অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, জল জমা এবং ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বর্ষা সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে। তাই আগামী সপ্তাহজুড়েই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। কৃষিক্ষেত্রের জন্য এই বৃষ্টি উপকারী হলেও শহরাঞ্চলে জল জমা, যানজট এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনে ছাতা বা রেনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ শুরু হলে খোলা মাঠ, উঁচু স্থান কিংবা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে না থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৎস্যজীবীদের সমুদ্র বা গভীর জলসীমায় যাওয়ার আগে সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন দেখে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া আগামী কয়েকদিন অস্থিরই থাকবে বলে পূর্বাভাস। ফলে জেলার বাসিন্দাদের নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


