পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত নতুন টেন্ডারকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল **কলকাতা হাইকোর্ট**। আদালত রাজ্য সরকারের জারি করা ওই টেন্ডারের উপর **অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ (Interim Stay)** জারি করেছে। ফলে আপাতত এই টেন্ডারের ভিত্তিতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আগামী **২০ আগস্ট** মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
মামলার সূত্রপাত একটি বেসরকারি সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে। ওই সংস্থার দাবি, এর আগে একই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি **ব্রড-বেসড কমিটি (Broad-Based Committee)** গঠন করতে হবে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন টেন্ডার প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু আদালতে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই রাজ্য সরকার নতুন টেন্ডার প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
আদালতে মামলাকারী সংস্থার আইনজীবীরা দাবি করেন, রাজ্য সরকার পূর্বে আদালতের কাছে সময় চেয়ে জানিয়েছিল যে, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়ার পরই টেন্ডার জারি করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেই জুলাই মাসের ২৩ বা ২৪ তারিখ নতুন টেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এমন পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশের পরিপন্থী বলেই তাঁদের দাবি।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় যে, আদালতের নির্দেশ অনুসারে ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি রোগীদের খাবারের নতুন মূল্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সুপারিশও করেছে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে একটি খসড়া টেন্ডার নথি প্রস্তুত করে অর্থ দফতরের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আদালতে নথি জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছু সময়ও চেয়েছিল রাজ্য।
তবে আদালত মামলার সব দিক বিবেচনা করে আপাতত টেন্ডারের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। বিচারপতি **কৃষ্ণা রাও** স্পষ্ট করেন যে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই টেন্ডার অনুযায়ী কোনও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আগামী **২০ আগস্ট** মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি মামলারও শুনানি হবে এবং সেদিনই বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
এই নির্দেশের ফলে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তবে এটি কোনও চূড়ান্ত রায় নয়; শুধুমাত্র মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ব্যবস্থা। পরবর্তী শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও সরকারি টেন্ডার নিয়ে আদালতে মামলা চলাকালীন আদালত যদি প্রাথমিকভাবে মনে করে যে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তাহলে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করা একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। এর উদ্দেশ্য মামলার নিষ্পত্তির আগে এমন কোনও পদক্ষেপ রোধ করা, যা পরে পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থা এবং আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করাও সমান জরুরি। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পরই এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ দিক স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, **সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন টেন্ডারের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।** আগামী **২০ আগস্ট** মামলার পরবর্তী শুনানির পর আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই টেন্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।


