পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক ভবনগুলির রূপ বদলের কাজ এবার আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে। **নবান্নের রং পরিবর্তনের কাজ শুরু হওয়ার পর এবার বিকাশ ভবন এবং শিক্ষা ভবনের রংও পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।** প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ভবনগুলিকে নতুন রঙে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি নবান্নের বাইরের অংশে নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। সেই পরিবর্তনের পরই প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল, রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলির ক্ষেত্রেও কি একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে? এবার সেই জল্পনাতেই কার্যত সিলমোহর পড়েছে। সূত্রের দাবি, **সল্টলেকের বিকাশ ভবন এবং সংলগ্ন শিক্ষা ভবনেও নতুন রঙের কাজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।**
**বিকাশ ভবন** পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা-সংক্রান্ত একাধিক দপ্তরের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র। স্কুল শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, গণশিক্ষা-সহ বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ এই ভবন থেকেই পরিচালিত হয়। তাই ভবনটির রূপ পরিবর্তনের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনের বাইরের দেওয়ালে নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মেরামতির কাজও করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে অনেক সরকারি ভবনের বাইরের অংশে রঙের জৌলুস কমে গিয়েছে। সেই কারণেই সৌন্দর্যবর্ধন এবং রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
যদিও কোন রঙ ব্যবহার করা হবে, কাজ কবে থেকে শুরু হবে এবং কতদিনের মধ্যে শেষ হবে—সেই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনিক ভবনের রং পরিবর্তনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, এটি সরকারি ভবনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নের অংশ। আবার বিরোধী মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্যও করেছে। তবে এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রশাসনিক ভবনগুলির নির্দিষ্ট সময় অন্তর রং করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণের অংশ। এর ফলে ভবনের স্থায়িত্ব বাড়ে, বাইরের দেওয়াল আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকে এবং কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের কাছেও ভবনের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে।
নবান্নে রঙের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলির ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা ছিল। এবার বিকাশ ভবন ও শিক্ষা ভবনের নাম সামনে আসায় সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি ভবনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রঙের ধরন, প্রকল্পের ব্যয় বা কাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, **নবান্নের পর এবার বিকাশ ভবন ও শিক্ষা ভবনের রূপ বদলের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।** আগামী দিনে এই প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত এগোয় এবং আর কোন কোন সরকারি ভবন এই উদ্যোগের আওতায় আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।


