বর্ষার দাপট এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। নিম্নচাপের প্রভাব কিছুটা দুর্বল হলেও **৩১ জুলাই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ফের বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।** বিশেষ করে কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
বর্ষাকালীন অক্ষরেখা এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া এখনও অস্থির রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে, তার রেশ কাটেনি। সেই কারণে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ-সহ একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, **৩১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট** পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে মোটের উপর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। ফলে নিচু এলাকা এবং জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন জায়গায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে |
কলকাতার ক্ষেত্রে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা **৩১ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস** এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা **২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের** মধ্যে থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টি না হলে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হবে। তবে বৃষ্টি নামলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং সাময়িক স্বস্তি মিলবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দুপুরের পর জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর জেরে কিছু এলাকায় ঘণ্টায় **৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার** বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বজ্রপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই খোলা মাঠ, জলাশয় বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বর্ষার প্রভাব অব্যাহত থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার-সহ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি নিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ু এখনও সক্রিয় থাকায় আগস্টের প্রথম সপ্তাহেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পর্ব চলতে পারে। যদিও টানা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা কম, তবে মাঝেমধ্যেই বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অফিসযাত্রী ও স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের জন্যও এই বৃষ্টি উপকারী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আমন ধানের চাষে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখতে এই বৃষ্টিপাত সহায়ক হবে। তবে অতিরিক্ত জল জমে গেলে কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, **৩১ জুলাই দক্ষিণবঙ্গে ফের বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎসহ দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।** নিম্নচাপের প্রভাব কমলেও বর্ষার সক্রিয় অবস্থার কারণে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়াই হবে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।


