কর্নাটকের রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী **সিদ্ধারামাইয়া**। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, **২০২৮ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আর প্রার্থী হবেন না**। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনের পর নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পিছনে তিনি বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং বর্তমান রাজনীতির পরিবেশকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচনে না লড়লেও জনজীবন ও রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবেই যুক্ত থাকবেন।
এক বিবৃতিতে সিদ্ধারামাইয়া বলেন, বর্তমান সময়ে রাজনীতির চরিত্র অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তাঁর মতে, রাজনীতি ক্রমশ দূষিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও সাধারণ মানুষের সমস্যা, দাবি এবং অধিকার নিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও সরব থাকবেন। তিনি জানান, জনগণের সুখ-দুঃখের সঙ্গেই তিনি নিজেকে যুক্ত রাখবেন এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে সমাজের সেবা চালিয়ে যাবেন।
সিদ্ধারামাইয়া কর্নাটকের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৮ এবং পরে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষক, গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য তিনি রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন। কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্নাটকের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তাঁর এই ঘোষণার পর কর্নাটকের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধারামাইয়ার অবসর ঘোষণার ফলে কংগ্রেসে নতুন নেতৃত্বের উত্থান আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী এবং সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে কংগ্রেসকে। অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দলের প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে।
যদিও নির্বাচনে আর না লড়ার কথা ঘোষণা করেছেন, সিদ্ধারামাইয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ছেন না। দলীয় কর্মসূচি, নীতি নির্ধারণ এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলিতে তিনি আগের মতোই অংশ নেবেন। তাঁর মতে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ সবসময় থাকে এবং সেই পথেই তিনি এগোতে চান।
এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলিও প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিদ্ধারামাইয়ার মতো অভিজ্ঞ নেতার নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো কর্নাটকের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দলীয় নেতৃত্ব এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে সিদ্ধারামাইয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর নির্বাচনে না লড়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হলেও এর রাজনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৮ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে সিদ্ধারামাইয়ার ঘোষণা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। তবে তিনি জনজীবন ও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন, ফলে ভবিষ্যতেও কর্নাটকের রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর প্রভাব বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


