পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী **শুভেন্দু অধিকারী**। বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের জবাবি ভাষণে তিনি জানান, **দুর্গাপুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে এবং মোট ২০ হাজার পুলিশ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।** দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলি দ্রুত পূরণ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের মিলিয়ে **প্রায় ৪৩ হাজারেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে**। এত বিপুল সংখ্যক শূন্যপদের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণকে দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুলিশ বাহিনীর শক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দুর্গাপুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবলকে কাজে যোগ দেওয়ানো হবে। এরপর আরও নিয়োগের মাধ্যমে মোট ২০ হাজার পুলিশ কর্মী বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই নিয়োগের ফলে থানাগুলিতে কর্মীসংকট অনেকটাই কমবে এবং বিভিন্ন জেলায় পুলিশি পরিষেবা আরও কার্যকর হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ রোধে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি পুলিশকে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনও দ্বিধা না করতে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগ পদক্ষেপে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শুধুমাত্র নতুন নিয়োগ নয়, থানাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, পুলিশ ব্যারাকের আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দিকেও জোর দেওয়া হবে। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পর্যাপ্ত জনবল ছাড়া কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
নিয়োগে মহিলাদের অংশগ্রহণও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। সরকার মনে করছে, মহিলা পুলিশ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে নারী-সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত, নিরাপত্তা এবং জনসেবামূলক কাজে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পুলিশ প্রশাসনের বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদ পূরণ হলে তদন্তের গতি বাড়বে, থানাভিত্তিক কর্মীদের উপর চাপ কমবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে উৎসবের মরসুমে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করাও সহজ হবে।
তবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপদ্ধতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, সংরক্ষণ নীতি এবং পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দফতর শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, **দুর্গাপুজোর আগে ২০ হাজার পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা** রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হিসেবে উঠে এসেছে। এখন নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।


