ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ফ্রান্সের সাফল্যের চাবিকাঠি কে? অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমী হয়তো একবাক্যে বলবেন **কিলিয়ান এমবাপে**। তবে ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি **থিয়েরি অঁরি** ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান ফরাসি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এমবাপে নন, বরং **মাইকেল অলিসে**। অঁরির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই এমবাপেকে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবে দেখা হয়। তাঁর গতি, গোল করার ক্ষমতা এবং বড় ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু অঁরির মতে, আধুনিক ফুটবলে শুধু গোল করাই সব নয়। একটি দলের আক্রমণ গড়ে তোলা, সুযোগ তৈরি করা এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব রয়েছে। সেই দিক থেকেই অলিসে বর্তমানে ফ্রান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।
অঁরি মনে করেন, অলিসের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সৃজনশীলতা। মিডফিল্ড এবং আক্রমণভাগের মধ্যে দুর্দান্ত সংযোগ তৈরি করার পাশাপাশি তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙার মতো পাস দিতে সক্ষম। ডান প্রান্ত থেকে কাট-ইন, নিখুঁত ক্রস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাঁর উপস্থিতিতে ফ্রান্সের আক্রমণ অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলে একজন প্লেমেকারের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েছে। গোলদাতারা শেষ মুহূর্তে আলো কেড়ে নিলেও, সেই গোলের পেছনে যে সৃজনশীল ফুটবল থাকে, তার বড় অংশই আসে এমন ফুটবলারদের কাছ থেকে। অঁরির বক্তব্যেও সেই দর্শনেরই প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর মতে, অলিসে মাঠে থাকলে এমবাপে-সহ অন্যান্য ফরোয়ার্ড আরও বেশি সুযোগ পান নিজেদের দক্ষতা দেখানোর।
বিশ্বকাপে ফ্রান্স ইতিমধ্যেই শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। দলগত সমন্বয়, দ্রুত আক্রমণ এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে ফরাসি দলকে অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অঁরির মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ তিনি শুধু একজন সাবেক ফুটবলার নন, ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সফল কিংবদন্তি হিসেবেও তাঁর মতামত বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এমবাপে এবং অলিসের ভূমিকা একেবারেই আলাদা। এমবাপে ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে পারেন নিজের গতিতে ও গোল করার ক্ষমতায়। অন্যদিকে অলিসে পুরো আক্রমণভাগকে সংগঠিত করেন এবং সুযোগ সৃষ্টি করেন। ফলে একজনকে অন্যজনের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা সবসময় সহজ নয়। বরং এই দুই ফুটবলারের সমন্বয়ই ফ্রান্সকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অঁরির মন্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক সমর্থক তাঁর বিশ্লেষণকে সমর্থন করে বলেছেন, অলিসে দলের ভারসাম্য রক্ষা এবং আক্রমণ পরিচালনায় অসাধারণ ভূমিকা রাখছেন। আবার অন্যদের মতে, এমবাপের মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারকে ফ্রান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের তালিকার বাইরে রাখা কঠিন।
কোচিং মহলের মতে, একটি সফল দল কখনও একজন ফুটবলারের উপর নির্ভর করে না। গোলদাতা, প্লেমেকার, রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক—প্রত্যেকের সম্মিলিত পারফরম্যান্সই একটি দলকে শিরোপার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ফ্রান্সের বর্তমান স্কোয়াডেও সেই ভারসাম্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
আগামী ম্যাচগুলিতে অলিসে এবং এমবাপে দু’জনের পারফরম্যান্সই ফ্রান্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই দুই তারকার ভূমিকার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে দলের ভবিষ্যৎ।
সব মিলিয়ে, থিয়েরি অঁরির মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—মাইকেল অলিসে এখন শুধু উদীয়মান প্রতিভা নন, বরং ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


