ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা **লিওনেল মেসি**কে লক্ষ্য করে ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন হামলার একটি ভয়াবহ জঙ্গি ষড়যন্ত্রের তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থার হাতে উঠে আসা নথি ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে ঢুকে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সন্দেহভাজন। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ভেস্তে যায় বলে জানা গিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তে উঠে এসেছে যে জঙ্গিরা বিশ্বকাপের ম্যাচকে টার্গেট করে আন্তর্জাতিক স্তরে বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়াতে চেয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি, মেসির জনপ্রিয়তা এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রভাবের কারণেই তাঁকে টার্গেট করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রচার পাওয়া যায়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে প্রবেশের সম্ভাব্য উপায়, নিরাপত্তা বলয়ের দুর্বলতা এবং খেলোয়াড়দের চলাচলের রুট নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল। তবে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ আগেই নজরে আসে। এরপর দ্রুত অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়।
এই ঘটনায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। লক্ষাধিক দর্শক, বিশ্বজুড়ে টেলিভিশন সম্প্রচার এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে এই ধরনের প্রতিযোগিতা জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে প্রচারের বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তাই বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সূত্রের খবর, বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়ামের ভেতর এবং বাইরে কড়া নজরদারি, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ করে এবং সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়। এই ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
তবে তদন্ত এখনও চলমান। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে এই পরিকল্পনার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল এবং কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের প্রত্যক্ষ মদত ছিল কি না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্বস্তির বিষয়, গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। লিওনেল মেসি বা আর্জেন্টিনা দলের অন্য কোনও সদস্যের কোনও ক্ষতি হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং দ্রুত তথ্য বিনিময়ের কারণেই এমন বড় ধরনের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ, অলিম্পিক বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও একই ধরনের সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রমাণিত হল, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশিত হলে এই চাঞ্চল্যকর জঙ্গি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।


